মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে অস্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপের কথা জানানোর পরই এক হত্যার ঘটনা সামনে আসে। ঘটনার সাথে জড়িয়ে থাকা ব্যক্তি গ্যারি হার্স্ট সম্পর্কে তার প্রতিবেশীরা বলেছিলেন, তিনি ছিলেন খুবই বিবাদপ্রবণ স্বভাবের। নিজের স্ত্রী এবং কিশোর পুত্রকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই তার অন্তর্ধান ঘটনা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। ২০১৩ সালের ৮ই জুলাই হার্স্টের অন্তর্ধান ঘটে। তখন থেকেই প্রতিবেশীদের ধারণা ছিল, তিনি হয়তো কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে বছর কয়েক পরে যে আবিষ্কার ঘটে তা ছিল আরও ভয়াবহ।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন, হার্স্টের অন্তর্ধানের কয়েকদিন আগে থেকেই তার বাড়ির পাশেই অবস্থিত এক প্রতিবেশীর বাড়িতে অস্বাভাবিক শব্দ ও ক্রিয়াকলাপ লক্ষ্য করেছিলেন তারা। স্ত্রী আইরিন হার্স্ট প্রতিবেশীর কাছ থেকে এমন কথা শুনে বলেছিলেন, ‘ওরা হয়তো তাকে মেরেই ফেলেছে!’ কিন্তু কেউই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেননি। কেবলমাত্র কয়েকটি অস্বাভাবিক ঘটনা ছাড়া আর কিছুই জানা যায়নি। তবে হার্স্টের স্ত্রী এবং পুত্র পরবর্তীতে আদালতে তাদের বিবৃতি দিলে পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়।
২০১৩ সালের জুলাই মাসে হার্স্টের স্ত্রী এবং পুত্রকে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। প্রশাসন প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, তিনি হয়তো কোনো কারণে নিজের পরিবার ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু হার্স্টের স্ত্রী আইরিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা সন্দেহ করতে শুরু করেন যে তার সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হার্স্টের অন্তর্ধানের কয়েকদিন আগে থেকে তার প্রতিবেশী দম্পতি তাদের বাড়িতে বারবার অস্বাভাবিক শব্দ ও তৎপরতা লক্ষ্য করেছিলেন। এমনকি কয়েকবার তাদের বাড়ির ভেতর থেকে রক্তের দাগও দেখা গিয়েছিল বলে জানা যায়।
বছর কয়েক পরে যখন তদন্তকারীরা প্রতিবেশীর বাড়িটি তল্লাশি করেন, তখন তারা একটি মৃতদেহ আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে সেই মৃতদেহটির ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি গ্যারি হার্স্টেরই। তদন্তের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা জানান, হার্স্টকে সম্ভবত তার প্রতিবেশী দম্পতি হত্যা করে তার মৃতদেহ লুকিয়ে রেখেছিলেন। আদালতের রায় অনুযায়ী, প্রতিবেশী দম্পতি হার্স্টকে হত্যা করার পর তার মৃতদেহ তাদের বাড়ির মেঝেতে লুকিয়ে রাখেন। পরে তারা হার্স্টের স্ত্রী এবং পুত্রকে জানান যে তিনি পরিবার ছেড়ে চলে গেছেন।
এই ঘটনার পর প্রশাসন হার্স্টের স্ত্রী আইরিন এবং তার পুত্রকে নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করে। প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, হার্স্টের বিবাদপ্রবণ স্বভাবই তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা আরও জানান, হার্স্ট প্রায়ই তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়তেন। এমনকি প্রতিবেশীর বাড়ির দেয়ালে তিনি বেশ কয়েকবার হুমকিসূচক লেখাও লিখেছিলেন। এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত হওয়া এক জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন