রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় এখনও শোকের ছায়া নেমেছে পদ্মাপাড়ে। গতকাল সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে রাজবাড়ীগামী একটি বেসরকারি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে স্বজনদের অশ্রুপ্লাবিত বিলাপ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের আর্তচিৎকার ও মৃতদের জন্য অঝোর ধারায় কান্নায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় পঞ্চাশজন যাত্রী ছিলেন। তবে প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত বিশজনকে উদ্ধার করা গেলেও মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে বারোজন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধার কার্যক্রমে। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা থেকে শতাধিক মানুষের সাহায্যকারী দল কাজ করছে জলে ডুবিয়ে রাখা যাত্রীদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য। তবে প্রবল স্রোত ও ঘোলাজলের কারণে উদ্ধার কাজে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অধিকাংশ যাত্রীর অবস্থান এখনও অজানা। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্ভবত চালকের অসতর্কতার কারণে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। তবে চূড়ান্ত কারণ উদঘাটনের জন্য বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও যানবাহন কর্তৃপক্ষ।
দৌলতদিয়া ঘাটের এই দুর্ঘটনা যেন পদ্মাপারের জনপদে আবারও নতুন করে শোকের বার্তা বহন করে আনল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা এ অঞ্চলে বিরল নয়। পদ্মা নদীর ভয়াবহ স্রোত ও বারবার ঘটে যাওয়া এমন দুর্ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে আগের দিনগুলোর স্মৃতি। ঘটনার পরপরই রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার ঘোষণা দেন।
তবে শুধু প্রশাসনিক সহায়তাই নয়, স্থানীয় জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীরা রক্তদান শিবির ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে, মৃতদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর থেকে তাদের জীবনে নেমে এসেছে এক বিভীষিকাময় অন্ধকার।
এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যানবাহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি দ্রুত বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন