মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অসংখ্য জনগোষ্ঠীর জন্য বিপজ্জনক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) সেখানে ‘বায়ু দূষণের’ সতর্কতা জারি করেছে। সূক্ষ্ম কণা দূষণ (পিএম২.৫)-এর মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোয় জনগণকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত প্রবীণ, শিশু ও যাদের হৃদরোগ অথবা ফুসফুসে সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি কতটা গুরুতর? এনডব্লিউএস-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব নেব্রাস্কার বেশ কয়েকটি কাউন্টি ও শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে থাকতে পারে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ডজ, ওয়াশিংটন, বাটলার, সন্ডার্স, ডগলাস, সার্পি, সিউয়ার্ড, ল্যাঙ্কাস্টার, ক্যাস, ওটো, স্যালাইন, জেফারসন, গেজ, জনসন, নেমাহা, পোনি, রিচার্ডসন কাউন্টি এবং ফ্রেমন্ট, ব্লেয়ার, ডেভিড সিটি, ওয়াহু, অ্যাশল্যান্ড, ইউটান, ওমাহা, বেলভ্যু, পাপিলিয়ন, লা ভিস্তা, সিউয়ার্ড, মিলফোর্ড, লিংকন, প্ল্যাটসমাউথ, নেব্রাস্কা সিটি, ক্রিট, উইলবার, ফেয়ারবারি, বিট্রিস, টেকামসেহ, স্টার্লিং, অরবান, পোনি সিটি, টেবিল রক ও ফলস সিটি।
ধোঁয়ার উৎস কী? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত অগ্নিকাণ্ড (প্রিস্ক্রাইবড ফায়ার) এবং প্রবল বাতাসের কারণে পিএম২.৫-এর মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সূক্ষ্ম কণা এতটাই ক্ষুদ্র যে তা সহজেই শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করা যায় এবং তা ফুসফুস অথবা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যগত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি বিদ্যমান স্বাস্থ্য সমস্যারও অবনতি ঘটাতে পারে এই দূষণ।
কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন? যারা দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, বিশেষত সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষদের জন্য কিছু সতর্কতা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের ভেতরে থাকুন, দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। বাইরে গেলেও সময় ও তীব্রতা কমিয়ে আনুন। ঘরের ভেতরের বাতাস যেন পরিষ্কার থাকে, সেজন্য মোমবাতি, ধূপ অথবা কাঠের চুলা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া বায়ু বিশুদ্ধ করার যন্ত্র ব্যবহার করুন এবং ঘরের মধ্যে যতটা সম্ভব পরিষ্কার বাতাস প্রবাহিত রাখার ব্যবস্থা করুন।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগও। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে তেমন ক্ষতি না হলেও সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষেরা বুকে ব্যথা, চোখ-নাক-গলা জ্বালাপোড়া, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদির মতো উপসর্গ অনুভব করতে পারেন। এমনকি বিদ্যমান হৃদরোগ বা ফুসফুসের রোগ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই যতক্ষণ না পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, ততক্ষণ ঘরের ভেতরেই থাকাই শ্রেয়।
মন্তব্য করুন