আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তা তিন দিনের মধ্যে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ইসির আইন শাখার উপসচিব মোহাম্মদ দিদার হোসাইনের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংঘটিত অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে ত্বরিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত যে কোনও ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচনী এলাকার নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক, আর বগুড়া-৬ আসনে দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী এলাকার দুই জেলার জেলা ও দায়রা জজকেও অনুসন্ধান ও বিচারিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন অপরাধ প্রতিরোধ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আদালতকেও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের সময় কোনও ধরনের অনিয়ম বা অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা নথিভুক্ত করা এবং তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ সুস্থ রাখতেই ইসির এই পদক্ষেপ। নির্বাচনের পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ভোটাররা নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। তবে স্থানীয়ভাবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ইসির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, নির্বাচনের সময় অপরাধ প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: Bangla Tribune
মন্তব্য করুন