যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে নিউ ইয়র্ক সিটির জনসংখ্যা আগের তুলনায় স্থির হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিবাসনের এই হার কমার পেছনে রয়েছে কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
এর আগে, প্রতিবছর নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রায় এক লাখ নতুন অভিবাসী আসতেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ত্রিশ হাজারে। এর ফলে শহরের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভিবাসীদের অবদান ছাড়া শহরটি তার গতিশীলতা হারাতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ কমে যাওয়াই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। এছাড়া বৈশ্বিক মহামারি পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা অভিবাসীদের অভিবাসনে নিরুৎসাহিত করেছে। অনেক অভিবাসী পরিবার তাদের পরিকল্পনা স্থানান্তরিত করেছে অথবা অভিবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে।
নিউ ইয়র্কের মতো বৈচিত্র্যময় শহরে অভিবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। তারা শহরের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু অভিবাসন কমার ফলে শহরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রম সংকট দেখা দিতে পারে। রেস্টুরেন্ট, নির্মাণশিল্প ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই খাতগুলোতে শ্রমিক সংকট দেখা দিলে শহরের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় প্রশাসন অভিবাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর জন্য কাজ করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। অভিবাসন নীতির সংস্কার ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। অন্যথায় নিউ ইয়র্ক সিটির মতো বৈশ্বিক শহরগুলো তাদের আকর্ষণ হারাতে পারে।
মন্তব্য করুন