সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঘোষণা করেছে তাদের নতুন মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা। আগামী এক দশকের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত মহাকাশযানের মাধ্যমে মঙ্গল অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নাসার প্রশাসক জিম ব্রিডেনস্টাইন জানিয়েছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে মার্কিনীদের মহাকাশ অনুসন্ধানের প্রতি আবার বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চান তারা। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে যাওয়া এই প্রকল্পে নাসা মার্কিন সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বেরও আশা করছে।
নাসার নতুন এই মহাকাশ অভিযান প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্টেমিস’। এই অভিযানের প্রথম ধাপ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানব অভিযান পরিচালনা করা হবে। এরপর ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে প্রথম মহিলা সহ মহাকাশচারী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এছাড়াও নাসা একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত মহাকাশযান নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যা মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
নাসার প্রশাসক আরও জানিয়েছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার নেতৃত্ব দিতে চায়। তিনি বলেন, ‘মহাকাশ অভিযানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চাই। আগামী দশকে আমরা মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’ নাসার নতুন প্রকল্পে মহাকাশচারী ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অভিযানে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কানাডা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মতো দেশগুলোও যুক্ত হবে বলে জানানো হয়েছে।
চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এটি ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানসহ অন্যান্য গ্রহে অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। নাসার এই পরিকল্পনা সফল হলে মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই অভিযানগুলো শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব আবার সমুন্নত হবে। নাসার নতুন প্রকল্পটি সফল হলে মহাকাশ অভিযানের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। নাসার পরিকল্পনায় মহাকাশচারীদের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন