বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্বের পরিস্থিতি আজও উদ্বিগ্নকর। সাম্প্রতিক গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা একমত হয়েছেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য বাধাগুলো দূর করতে হবে। বর্তমানে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ৭টি আসনে নারী প্রতিনিধি রয়েছেন, যা মোট ২ শতাংশেরও কম। এ অবস্থা পরিবর্তন করতে সংরক্ষিত আসনের কার্যকর ব্যবহার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকে, আমরা দেখতে পাই যে, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি আমাদের সকলের জন্য সুবিধাজনক। আমেরিকার মতো বহু-সাংস্কৃতিক সমাজেও নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব বুঝা হয়। বাংলাদেশেও নারীরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারলে, দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন।
গোলটেবিল বৈঠকে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেল বলেন, নারীকে নাগরিক হিসেবে দেখলে তাদের আবেদনকে অনুকম্পার দৃষ্টিতে না দেখে সঠিক মূল্যায়ন করা যাবে। তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত আসনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মনোনয়ন দিলে নারীরা শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মন্তব্য করেন, নারীর সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্যমান কাঠামো পাল্টতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন ‘নারীশক্তি’র আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্পণ্য নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি বলেন, স্বজনদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি না করে তৃণমূল থেকে উঠে আসা যোগ্য নারীদেরকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দিলে এই আসনও ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
অনলাইন সহিংসতা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা বলেন, অনলাইনে সহিংসতা নারী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ আক্রমণের একটি রূপ। তিনি বলেন, এই ধরনের সহিংসতা কমাতে রাজনৈতিক দলগুলো এক হয়ে কাজ করতে হবে।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ক্যাথরিন সিসিল বলেন, নারীরা যদি আলোচনার টেবিলে না থাকেন, তাহলে তাদের মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি হারিয়ে যাবে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের পর থেকে নারীরা জনজীবনে যুক্ত হতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি আমাদের সমাজের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।
মন্তব্য করুন