২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের অন্যতম আনুষ্ঠানিক ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ফ্ল্যাগ ফুটবল। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে মার্কিন জাতীয় দলের হয়ে স্বর্ণপদক জয় করার স্বপ্ন দেখছেন এনএফএল তারকারা। এমনকি ফিলাডেলফিয়া ঈগলসের কোয়ার্টারব্যাক জালেন হার্টস পর্যন্ত এই ইভেন্টের মার্কেটিংয়ে সামিল হয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফ্ল্যাগ ফুটবল দলের সদস্যরা যেন হয়ে গেছেন যেন দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ! এনএফএল তারকাদের পদচারণায় তাঁদেরকে উপেক্ষা করা হতে লাগল। স্কুলের সেইসব দুর্বল ছাত্রদের মতো যাদেরকে সবাই অবজ্ঞা করে।
কিন্তু শনিবারের ম্যাচটি তাঁদের জন্য হয়ে উঠল চরম শিক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্ল্যাগ ফুটবল দল দুটি দলের মুখোমুখি হল যাদের মধ্যে ছিল এনএফএল তারকা ও প্রাক্তন কিংবদন্তিরা। ফলাফল? যুক্তরাষ্ট্রের ফ্ল্যাগ ফুটবল দল এমনভাবে তাঁদের বিধ্বস্ত করল যে, অলিম্পিক দল নির্বাচনের আগে আর কোনো এনএফএল তারকা নিজেদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হতে পারবেন না।
এই ম্যাচটি ছিল যেন দুইটি সম্পূর্ণ ভিন্ন খেলার মুখোমুখি হওয়া। ছোট্ট মাঠে দ্রুত গতিতে খেলা ফ্ল্যাগ ফুটবল খেলোয়াড়দের সামনে এনএফএল তারকারা যেন হার মানলেন। তাঁরা যখনই চেষ্টা করলেন প্রতিপক্ষের ফ্ল্যাগ ছিনিয়ে নিতে, তখনই রেফারি তাঁদের বিরুদ্ধে ফাউল ঘোষণা করলেন। এমনকি জো বুরো, টম ব্র্যাডির মতো তারকারাও তাঁদের অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের কাছে অসহায় হয়ে পড়লেন।
জো বুরো প্রথমবারই তাঁর পাসটি বিপক্ষ দলকে ছিনিয়ে নিতে দেখলেন এবং তা সোজা বিপক্ষ দলের হাতে চলে গেল। এছাড়া যখনই এনএফএল তারকারা প্রতিপক্ষকে ধাক্কা দিতে চাইলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গেই ফাউল ধরা পড়ল। নিয়মিত ফুটবলের মতো শক্তিশালী শারীরিক সংঘর্ষের সুযোগ এখানে একেবারেই ছিল না। ফলে অলিম্পিকের আগে এনএফএল তারকারা যদি আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের সেই ভুল ভাঙবে খুব তাড়াতাড়ি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্ল্যাগ ফুটবল দলের সদস্যরা বার্তা দিয়েছেন এনএফএল তারকারা যেন নিজেদেরকে বেশি আত্মবিশ্বাসী না করেন। আর যদি তাঁরা তা করে থাকেন, তাহলে অচিরেই তাঁদের সেই ধারণা পাল্টে যাবে। অলিম্পিকের দুই বছর আগেই তাঁদের পরিষ্কার বার্তা পৌঁছে গেছে যে, ফ্ল্যাগ ফুটবলে তাঁদের অভিজ্ঞতা যতই থাকুক না কেন, নিয়মিত ফুটবলের সঙ্গে এর পার্থক্য বিশাল।
মন্তব্য করুন