ProbasiNews
১৯ মার্চ ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ট্রাম্পের দ্বিচারিতা : যে কথা বলেন, তা মানেন না!

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেশ সরব হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা আমাদের সবচেয়ে পবিত্র অধিকারগুলির অন্যতম। একে রক্ষা করা প্রতিটি আমেরিকান নাগরিকের দায়িত্ব।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প তাঁর নিজের কর্মকাণ্ড ও নীতির মাধ্যমে বারবার সেই অধিকারকে পদদলিত করেছেন। তাঁর প্রশাসন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে, অভিবাসন নীতির নামে ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে প্রগতিশীল অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ট্রাম্পের এই প্রচারণা আসলে রাজনৈতিক সুবিধা লাভের একটা হাতিয়ার মাত্র। তাঁর সরকার বারবার প্রমাণ করেছে যে, ধর্মীয় স্বাধীনতা বলতে তাঁদের কাছে শুধু খ্রিস্টান ধর্মের স্বাধীনতাকেই বোঝানো হয়েছে। মুসলিম, ইহুদি, নাস্তিক বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকারকে তাঁরা কখনোই সমান গুরুত্ব দেননি। এমনকি অভিবাসন নীতির মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলির নাগরিকদের প্রবেশাধিকারকে সীমিত করা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে ধর্মীয় বৈষম্যের উদাহরণ।

ট্রাম্পের এই দ্বিচারিতা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি বারবার তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। আন্তর্জাতিক আইনের চোখেও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপগুলি গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি তাঁর নিজ দলের মধ্যেও অনেকে তাঁর এই নীতির বিরোধিতা করেছেন।

বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে যতটা উচ্চকিত হন, তাঁর কর্মকাণ্ড ততটাই বিভেদমূলক। তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছেন। তাঁর এই দ্বিচারিতা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর এই কথিত উদ্বেগ আসলে কোনো নৈতিক অবস্থান নয়, বরং ক্ষমতা দখলের একটা কৌশল মাত্র।

আমাদের মনে রাখতে হবে, ধর্মীয় স্বাধীনতা হলো প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অধিকার কারো নেই। ট্রাম্পের মতো নেতারা যখন ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন সমাজে বিভেদ ও ঘৃণার বীজ রোপিত হয়। বাস্তবিক অর্থেই, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর এই প্রচারণা শুধু মিথ্যা নয়, তা প্রকৃতপক্ষে ধর্ম ও মানবতার প্রতি শ্রদ্ধাহীনতারই পরিচয় বহন করে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০২৬ সালে কর্মী ছাঁটাইয়ের তালিকায় মেটা, অ্যামাজন, ইপিক গেমস — জানুন বিস্তারিত

এক্স-এ আলোড়ন! এলন মাস্কের হস্তক্ষেপে থমকে দাঁড়ালো ট্রলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ স্থগিত রাখতে যুগান্তকারী আইন আনছেন স্যান্ডার্স ও এওসি

এপস্টাইনের কেলেঙ্কারী: যুক্তরাজ্য ছাড়ার পরামর্শ রাজকুমারী বিট্রিসকে

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বিপদ ঘনীভূত! প্রস্তাবিত সমাধানই কি বিপরীতমুখী ফল আনবে?

‘ডেয়ারডেভিল: বর্ন অ্যাগেইন’ সিজন ২ এপিসোড ২ এর মুক্তির তারিখ ও দেখার উপায়

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এমন কিছু ভুল করবেন না যাতে হতে পারে আইআরএস অডিট

ব্রক লেসনার তাঁর বুকের বিশাল তরবারি ট্যাটুর পিছনের অদ্ভুত গল্পটি ফাঁস করলেন!

নতুন বাড়ির পিছনের জলাশয়ে মিলল অপ্রত্যাশিত অতিথি! রোজিনের জীবনে যোগ দিল এক ব্যাঙ

২০২৬ সালের হারিকেন মরশুমে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে ‘সুপার এল নিনো’! আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস

১০

ছবির দিনের ঠিক আগ মুহূর্তে মা যখন দেখলেন সন্তানের মুখে মার্কার কলমের ছোপ!

১১

ডেলিভারি ড্রাইভারের আবেগঘন স্বীকারোক্তি: তিন বছরের ‘পোষা প্রাণীর বন্ধুত্ব’!

১২

বিশ্বখ্যাত কোচ ব্র্যাড স্টিভেন্সের পদ প্রত্যাখ্যান! ইউনিসিকে দিলেন ফিরিয়ে

১৩

নির্মাণ প্রকল্প পরিচালনায় বিপ্লব আনতে এআই এজেন্ট তৈরি করল স্টার্টআপ, উঠল ৯ মিলিয়ন ডলার

১৪

১৪ বছর বয়সে ক্যান্সার প্রতিরোধে বিপ্লব: হার্ভার্ডের ছাত্রীর উদ্যোগে ৪০ হাজার যুবকের সামিল হওয়া

১৫

মেগান মার্কলের একপাত্র স্প্যাগেটি: মাত্র বিশ মিনিটে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার

১৬

হঠাৎ ছুটি মানেই এখন বিমানযাত্রা নয় — দাম আর সময়ের ভোগান্তিতে পাল্টে যাচ্ছে ভ্রমণের ধারা

১৭

আয়ের থেকে কম নিয়ে জীবনের ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব? একজনের অভিজ্ঞতা

১৮

গাড়ি ছাড়াই ভ্রমণের জন্য আদর্শ সাতটি মার্কিন শহর

১৯

ভাইরাল হওয়া আমার বেকারিকে বাঁচিয়েছিল, কিন্তু কখনোই অর্থের জন্য নয়

২০