চার্চ অভ ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এক বিরল ও যুগান্তকারী ঘটনা ঘটতে চলেছে। আগামী বুধবার, অর্থাৎ ১৮ই মার্চ, ক্যান্টারবেরি ক্যাথিড্রালে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক হবে সারাহ মুলালির। প্রথাগতভাবে চার্চ অভ ইংল্যান্ডের প্রধান ধর্মযাজক হিসেবে তাঁর অভিষেক হবে, যা তাকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম নারী প্রধান ধর্মযাজক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তাঁর এই মনোনয়ন শুধু যুক্তরাজ্যই নয়, বিশ্বব্যাপী অ্যাঙ্গলিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সারাহ মুলালি ইতিপূর্বে চার্চ অভ ইংল্যান্ডের বিশপ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মযাজক, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হতে প্রস্তুত। তবে তাঁর নিয়োগকে কেন্দ্র করে অ্যাঙ্গলিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিছু গোষ্ঠী তাঁর নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে আরেক দল তাঁর মতবাদ ও নেতৃত্বের বিরোধিতা করছেন।
সারাহ মুলালির অভিষেক নিয়ে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাঁর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি। বিশেষ করে সমকামিতা ও বিবাহ সম্পর্কিত তাঁর মতামতকে ঘিরে বিতর্ক চরমে উঠেছে। চার্চ অভ ইংল্যান্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে নারী নেতৃত্বের বিষয়টি ইতিমধ্যেই একাধিকবার আলোচিত হয়েছে, তবে প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রধান ধর্মযাজকের অধীনে সম্প্রদায় পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকের কাছেই নতুন ও চ্যালেঞ্জিং।
তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠানের আগে থেকেই বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতারা তাঁর প্রতি সমর্থন ও বিরোধিতা উভয়ই প্রকাশ করেছেন। লন্ডনের বিশপ অ্যান প্যাটারসন তাঁর নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “এটি চার্চ অভ ইংল্যান্ডের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সারাহ মুলালির নেতৃত্বে আমরা নতুন যুগের সূচনা করতে পারবো।” অন্যদিকে, রক্ষণশীল ধর্মযাজকদের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সারাহ মুলালির অভিষেক শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে লিঙ্গ সমতার প্রশ্নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর নিয়োগকে ঘিরে সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে অনেকেই মনে করছেন যে এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে নারীর ক্ষমতায়নের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অন্যদিকে, রক্ষণশীল মহল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননার অভিযোগও উঠছে।
বিশ্বব্যাপী অ্যাঙ্গলিকান সম্প্রদায়ের প্রায় ৮৫ মিলিয়ন সদস্য রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে নারীর নেতৃত্ব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। কিছু দেশের চার্চ সারাহ মুলালির নিয়োগকে স্বাগত জানালেও, আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অংশের চার্চ তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে অ্যাঙ্গলিকান সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
সারাহ মুলালির অভিষেক অনুষ্ঠানটি ক্যান্টারবেরি ক্যাথিড্রালে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস সহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকবেন। তাঁর অভিষেকের পর চার্চ অভ ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা কেমন হবে, তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে তাঁর নেতৃত্বে চার্চ অভ ইংল্যান্ড আরও আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠতে পারে, তবে একই সঙ্গে তাঁকে ধর্মীয় বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতেও হবে।
মন্তব্য করুন