মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীর হচ্ছে। সাম্প্রতিক আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় মার্কিন মহানগরগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮৭টি মহানগর এলাকার মধ্যে অধিকাংশই জনসংখ্যা বৃদ্ধির দেখা পেলেও তা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় অনেক ধীর গতিতে। আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে মহানগর এলাকাগুলির জনসংখ্যা গড়ে মাত্র ০.৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে এক বছর আগের একই সময়ে বৃদ্ধির হার ছিল ১.১%।
সবচেয়ে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেছে ফ্লোরিডার ওকালা মহানগর এলাকায়। সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল সর্বোচ্চ। তবে এটি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কিছুটা ধীর গতিতে। অন্যদিকে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার মাইর্টল বিচেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য। এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ ছিল অভ্যন্তরীণ অভিবাসন। অর্থাৎ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বেশি মানুষ এই এলাকাগুলিতে স্থানান্তরিত হয়েছে।
ফ্লোরিডার ২২টি মহানগর এলাকার মধ্যে ২১টিতেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেছে। তবে অধিকাংশ এলাকাতেই বৃদ্ধির হার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কম ছিল। এমনকি মিয়ামি মহানগর এলাকায় জনসংখ্যা সামান্য হ্রাস পেয়েছে। এর কারণ অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের নেতিবাচক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসনের গতি কমে যাওয়া। তবে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা হ্রাস ঘটেছে নিউইয়র্কের ওয়াটারটাউনে।
আদমশুমারি ব্যুরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্যুরোর কর্মকর্তা ক্রিস্টিন হার্টলির মতে, এটি মূলত আন্তর্জাতিক অভিবাসন হ্রাসের কারণে ঘটেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চাকরি বাজারের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের চাহিদাও কমবে। ফলে বেকারত্ব স্থিতিশীল রাখতে কম কর্মসংস্থানই যথেষ্ট হতে পারে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কমেছে। টেক্সাসের লারেডো, অ্যারিজোনার ইউমা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার এল সেন্ট্রোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি এল সেন্ট্রোতে জনসংখ্যা হ্রাসও ঘটেছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে যেতে পারে। ফলে সরকারি নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন