বাংলাদেশে দৈনিক প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন তেল, গমের আটা, চিনি এবং ডালের দাম আবারও বাড়ছে। বিশেষ করে কচুয়া ডাল, মসুর ডাল এবং চানা ডালের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এই দাম বৃদ্ধি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্যও একটি বড় সমস্যা। আমাদের দেশে পরিবারকে পাঠানো অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খাদ্য খরচে খরচ হয়। যখন দেশে দাম বাড়ছে, তখন প্রবাসীদেরও চাপ বাড়ছে।
শনিবার কাটুঞ্জে কানাডীয় এবং অস্ট্রেলীয় ডালের দাম ছিল ৩,১০০ টাকা প্রতি মাউন্ড, যা সপ্তাহ আগে ছিল ২,৯৮৫ টাকা। সাদা চানা ডালের দাম ১৫০ টাকা এবং আমদানিকৃত চানা ডালের দাম ২০০ টাকা বাড়েছে। এখন সেগুলি যথাক্রমে ১,৫৩০ টাকা এবং ২,৪০০ টাকা প্রতি মাউন্ডে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীগণ দাবি করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডালের দাম বাড়ার কারণে এটা ঘটছে। কিন্তু কিছু আমদানিকারীরা দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তারা দাম বাড়িয়ে রেখেছেন, যদিও বাজারে ডালের সরবরাহ যথেষ্ট আছে। এটা খুবই চিন্তাজনক, কেননা প্রবাসীরা দেশে তাদের পরিবারকে পাঠানোর অর্থের একটি বড় অংশ খাদ্য খরচে খরচ করে।
নিউইয়র্কের বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সমস্যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রবাসী তাদের পরিবারকে নিয়মিত অর্থ পাঠায়, এবং যখন দেশে দাম বাড়ছে, তখন তাদেরও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে, যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য, তাদের জন্য এটা আরও কঠিন। তারা দেখতে পাচ্ছেন যে, তাদের পাঠানো অর্থের মূল্য কমছে, কারণ দেশে দাম বাড়ছে।
এছাড়াও, তেলের দামও বাড়ছে। পাঁচ লিটার তেলের দাম ঢাকার মঘবাজারে এখন ৭৬০ টাকা, যা সপ্তাহ আগে ছিল ৭১০ টাকা। আটার দাম ৫ টাকা বাড়ে ৭৫ টাকা প্রতি কিলোগ্রামে, এবং চিনির দামও ৫ টাকা বাড়ে ৭৫ টাকা প্রতি কিলোগ্রামে। এটা সবকিছুই প্রবাসীদের জন্য একটি বড় চাপ।
এই সমস্যা সমাধান করতে, বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজন একটি কার্যকর নীতি। তারা দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। প্রবাসীরা তাদের দেশের জন্য অনেক অর্থ পাঠায়, এবং তারা আশা করে যে, তাদের অর্থের মূল্য বজায় থাকবে। কিন্তু যখন দাম বাড়ছে, তখন তাদের আশা ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে।
এই সমস্যা সমাধান করতে, আমাদের সবারই একসাথে কাজ করতে হবে। প্রবাসীরা তাদের দেশের জন্য অর্থ পাঠায়, এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্বাস দিতে পারে যে, তাদের অর্থের মূল্য বজায় থাকবে। এটা সবার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু আমরা এটাকে সমাধান করতে পারি।
মন্তব্য করুন