দক্ষিণ ক্যারোলিনার স্পার্টানবার্গ কাউন্টিতে বসবাসকারী কেট মরো তার ৮ বছরের জমজ সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার সন্তানরা জন্মের সময় খুবই অস্বাভাবিকভাবে পৃথিবীতে আসে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল ছিল। তার প্রতিবেশীদের উপর নির্ভর করেই তিনি তার সন্তানদের নিরাপদ রাখতে পারেন।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্যরকম। মরো পরিবার যখন ২০১৯ সালে স্পার্টানবার্গ কাউন্টিতে আসে, তখন সেখানে মাতার উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এই এলাকাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মাতার প্রকোপের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে প্রায় ১০০০টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
মাতা একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা ২০০০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্মূল করা হয়েছিল ব্যাপক টিকা প্রচার ও স্কুলে টিকা বাধ্যতামূলক করার কারণে। কিন্তু বর্তমানে মাতার পুনরুত্থানের ফলে দেশটি আবার নির্মূল মর্যাদা হারাতে পারে।
স্পার্টানবার্গ কাউন্টিতে স্কুলে টিকাকরণের হার ৮৯% এ নেমে এসেছে, যা ৯৫% এর ন্যূনতম সীমা থেকে কম। এটি শুধু স্পার্টানবার্গ কাউন্টির সমস্যা নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে টিকাকরণের হার এতই কমে গেছে যে সেখানে মাতার প্রকোপ দেখা দিতে পারে, বলছেন মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ গবেষণা ও নীতি কেন্দ্রের পরিচালক মাইকেল ওস্টারহোম।
মরো জানতে চান, কেন তার প্রতিবেশীরা টিকা প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কীভাবে এখানে পৌঁছেছি? আমরা কীভাবে এমন এক জায়গায় পৌঁছেছি যেখানে আমরা আমাদের ডাক্তারদের উপর আস্থা রাখি না?’
এই প্রশ্নটি শুধু মরোর নয়, বরং সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। টিকা প্রত্যাখ্যানের ফলে মাতার প্রকোপ বাড়ছে, এবং এটি সমগ্র দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারা তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা তাদের সন্তানদের টিকা দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিন্তু তারা তাদের প্রতিবেশীদের টিকা প্রত্যাখ্যান করতে দেখে উদ্বিগ্ন।
এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে, আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। আমাদের টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে, এবং আমাদের সন্তানদের টিকা দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। আমাদের সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হবে, এবং আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে কাজ করতে হবে এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে।
মন্তব্য করুন