ProbasiNews
২৪ মার্চ ২০২৬, ১:৫৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

তেলের দাম কমার পাল্টা প্রভাব: ট্রাম্পের ইরান নীতিতে শেয়ারবাজার চাঙ্গা

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত কঠোর অবস্থান কিছুটা শিথিল করার ঘোষণা শেয়ারবাজারকে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে। আজকের ট্রেডিং সেশনে বিশ্বের প্রধান প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জগুলিতে সূচকের উর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডাও জোন্স ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক যথাক্রমে ১.২% ও ১.১% বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয় বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ফ্রান্সের সিএসি ৪০ এবং জার্মানির ডিএএক্স সূচক যথাক্রমে ০.৮% ও ০.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে একটি স্বস্তির বার্তা হিসেবে কাজ করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।

তবে এই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই সামান্য বিরতি দেখা গেছে দুপুরের দিকে। যখন বাজারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে। তেলের দাম কমার প্রভাবেও একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৩% কমে গিয়ে ৭২.৫০ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদের হারও কিছুটা কমে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ইরান নীতির পরিবর্তন কেবলমাত্র ক্ষণস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ জটিল রয়ে গেছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই বৈশ্বিক ঘটনার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জেও (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। তবে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা বেশ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের পুঁজিবাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিত।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রাবাজারে। বিশেষ করে তেল রপ্তানিকারী দেশগুলিতে মুদ্রার মান কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে এই পরিবর্তন বাংলাদেশের মতো তেল আমদানিকারী দেশগুলির জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসে তেলের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ইরান নীতির পরিবর্তন মূলত একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ হতে পারে, যার পেছনে অর্থনৈতিক কারণও কাজ করতে পারে। কারণ ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হলে বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য এটি একটি সুযোগ হতে পারে বৈশ্বিক বাজারে আরও বেশি অংশগ্রহণ করার।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তনশীল প্রকৃতির কারণে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করার সময় অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ যে কোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে বাজারে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত নিজেদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া।

এদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যায় যে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রচেষ্টাগুলির সুফল পেতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

উপসংহারে বলা যায়, ট্রাম্পের ইরান নীতির পরিবর্তন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি এনেছে ঠিকই, তবে পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে আরও অনেক দূর যেতে হবে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলির জন্য এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং সঠিক সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০২৬ সালে কর্মী ছাঁটাইয়ের তালিকায় মেটা, অ্যামাজন, ইপিক গেমস — জানুন বিস্তারিত

এক্স-এ আলোড়ন! এলন মাস্কের হস্তক্ষেপে থমকে দাঁড়ালো ট্রলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ স্থগিত রাখতে যুগান্তকারী আইন আনছেন স্যান্ডার্স ও এওসি

এপস্টাইনের কেলেঙ্কারী: যুক্তরাজ্য ছাড়ার পরামর্শ রাজকুমারী বিট্রিসকে

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বিপদ ঘনীভূত! প্রস্তাবিত সমাধানই কি বিপরীতমুখী ফল আনবে?

‘ডেয়ারডেভিল: বর্ন অ্যাগেইন’ সিজন ২ এপিসোড ২ এর মুক্তির তারিখ ও দেখার উপায়

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এমন কিছু ভুল করবেন না যাতে হতে পারে আইআরএস অডিট

ব্রক লেসনার তাঁর বুকের বিশাল তরবারি ট্যাটুর পিছনের অদ্ভুত গল্পটি ফাঁস করলেন!

নতুন বাড়ির পিছনের জলাশয়ে মিলল অপ্রত্যাশিত অতিথি! রোজিনের জীবনে যোগ দিল এক ব্যাঙ

২০২৬ সালের হারিকেন মরশুমে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে ‘সুপার এল নিনো’! আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস

১০

ছবির দিনের ঠিক আগ মুহূর্তে মা যখন দেখলেন সন্তানের মুখে মার্কার কলমের ছোপ!

১১

ডেলিভারি ড্রাইভারের আবেগঘন স্বীকারোক্তি: তিন বছরের ‘পোষা প্রাণীর বন্ধুত্ব’!

১২

বিশ্বখ্যাত কোচ ব্র্যাড স্টিভেন্সের পদ প্রত্যাখ্যান! ইউনিসিকে দিলেন ফিরিয়ে

১৩

নির্মাণ প্রকল্প পরিচালনায় বিপ্লব আনতে এআই এজেন্ট তৈরি করল স্টার্টআপ, উঠল ৯ মিলিয়ন ডলার

১৪

১৪ বছর বয়সে ক্যান্সার প্রতিরোধে বিপ্লব: হার্ভার্ডের ছাত্রীর উদ্যোগে ৪০ হাজার যুবকের সামিল হওয়া

১৫

মেগান মার্কলের একপাত্র স্প্যাগেটি: মাত্র বিশ মিনিটে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার

১৬

হঠাৎ ছুটি মানেই এখন বিমানযাত্রা নয় — দাম আর সময়ের ভোগান্তিতে পাল্টে যাচ্ছে ভ্রমণের ধারা

১৭

আয়ের থেকে কম নিয়ে জীবনের ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব? একজনের অভিজ্ঞতা

১৮

গাড়ি ছাড়াই ভ্রমণের জন্য আদর্শ সাতটি মার্কিন শহর

১৯

ভাইরাল হওয়া আমার বেকারিকে বাঁচিয়েছিল, কিন্তু কখনোই অর্থের জন্য নয়

২০