চলতি সপ্তাহেই ডিজনির দায়িত্বভার গ্রহণ করতে যাওয়া নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জশ ডি’আমারোর সামনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের চ্যালেঞ্জ। তার পূর্বসূরি বব ইগারের প্রায় দেড় দশকের নেতৃত্বের পর ডিজনির নেতৃত্বে আসছেন ডি’আমারো, যিনি ইতিমধ্যেই ডিজনির অভিজ্ঞতা বিভাগের প্রধান হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে Wall Street-এর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন সহজ নয়। ডিজনির শেয়ারের দাম গত এক দশকে প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে এবং সর্বোচ্চ মূল্য থেকে প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডি’আমারোকে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ তৈরির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে, ভিডিও গেম শিল্পে বিনিয়োগ করতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ডিজনির সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে আগামী প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তাদেরকে আরও বেশি করে গ্রহণযোগ্য করে তোলা। জন গিগেঙ্গ্যাক নামে একজন মিডিয়া বিশ্লেষক বলেছেন, এই নতুন যুগে ডিজনিকে তাদের ব্যবসায়িক মডেল থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং দর্শকদের নিজেদের মত করে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে। তার মতে, দর্শকদের কাছে শুধুমাত্র চলচ্চিত্র বা স্ট্রিমিং পরিষেবা নয়, তাদেরকে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে, যেমন ফোর্টনাইট-এর মতো গেমসে ডিজনি চরিত্রদের সাথে খেলার সুযোগ।
নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ তৈরির ক্ষেত্রে ডিজনির প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে তাদের বিদ্যমান আইপি (বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি) ব্যবহার করে নতুন কিছু তৈরি করা। বিশ্লেষক ব্র্যান্ডন কাটজ মনে করেন, ডিজনির সামগ্রিক বৃদ্ধির জন্য শুধুমাত্র চলচ্চিত্র বা সিরিজ নির্ভর না হয়ে, সেই সামগ্রীকে পার্ক, মার্চেন্ডাইজ, গেমস এবং স্ট্রিমিং পরিষেবার মাধ্যমে বহুমুখী ভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ফ্রোজেন’-এর মতো নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ তৈরি করার ক্ষেত্রে বই বা ভিডিও গেম থেকেও অনুপ্রেরণা নেওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে, সুপারহিরোদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নতুন ধরনের সামগ্রী তৈরির দিকে নজর দিতে হবে।
ভিডিও গেম শিল্পে ডিজনির সম্ভাবনা রয়েছে বিপুল পরিমাণে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজনির মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য ভিডিও গেম হল এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে তারা তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। গেমসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দর্শকরা সরাসরি ডিজনি চরিত্রদের সাথে যুক্ত হতে পারবে, যা তাদেরকে ব্র্যান্ডের প্রতি আরও বেশি অনুরক্ত করবে। ডিজনি ইতিমধ্যেই ইপিক গেমস-এর সাথে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করেছে, যার ফলে ফোর্টনাইট-এর মতো গেমসে ডিজনি চরিত্রদের দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভিডিও গেম বিভাগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং তা ডিজনির মূল ব্যবসায়িক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিজনিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। ডিজনি ইতিমধ্যেই OpenAI-এর সাথে একটি চুক্তি করেছে যার মাধ্যমে ডিজনি+ প্ল্যাটফর্মে AI-এর মাধ্যমে তৈরি ছোট ভিডিও ক্লিপ দেখানো সম্ভব হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দর্শকদের কাছে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারে, তবে একইসঙ্গে ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা ও সম্মানজনক অবস্থান রক্ষা করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন যে, AI-এর মাধ্যমে তৈরি কন্টেন্ট দর্শকদের কাছে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে না এবং তা শুধুমাত্র অস্থায়ী মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবে।
ডিজনির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে তাদের টিভি নেটওয়ার্ক ব্যবসা সম্পর্কে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডিজনির কিছু টিভি নেটওয়ার্ক বিক্রি করে দেওয়া উচিত, বিশেষ করে যেগুলোর দর্শকসংখ্যা কমছে। তবে এসপিএন-এর মতো নেটওয়ার্ক বিক্রি করা কঠিন হবে কারণ এটি বর্তমানে অত্যন্ত মূল্যবান একটি সম্পদ। এছাড়া, এসপিএন-এর মত ক্রীড়া সম্প্রচার চ্যানেলগুলোর অধিকার ক্রয় অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তা ডিজনির জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্লেষক রিচ গ্রিনফিল্ড মনে করেন, ডিজনিকে লিনিয়ার টিভি ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্য মাধ্যমগুলোর দিকে নজর দিতে হবে।
মন্তব্য করুন