ওয়াশিংটন, মার্চ ২৩, ২০২৬ — দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)-এর অর্থসংস্থান নিয়ে আলোচনা আবারও থমকে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকানদের প্রতি চাপ দিয়েছেন ডিএইচএস-এর অর্থবিলের সঙ্গে তাঁর প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ যুক্ত করার জন্য। এই আইনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার সময় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এই আইনের বিরোধিতা করায় রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
সিনেটের নেতা জন থুন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সিনেটে এই আইনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের সমর্থন নেই। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ‘আমি রিপাবলিকানদের প্রতি অনুরোধ করছি, কোনও চুক্তি করবেন না।’ তাঁর মতে, এই আইনটি ডিএইচএস-এর অর্থসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। অন্যথায় সরকার বন্ধের অবসান ঘটবে না।
ডিএইচএস-এর অর্থসংস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে প্রায় ৩৮ দিন ধরে। এই সময়ে টিএসএ কর্মীদের বেতন না দেওয়ার কারণে বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইন দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আইসিই-এর অর্থসংস্থানের বিরোধিতা করলেও টিএসএ-এর মতো অন্যান্য বিভাগের অর্থসংস্থানের অনুমোদন দিতে রাজি হয়েছে। কিছু রিপাবলিকান সদস্য আইসিই ব্যতীত অন্যান্য বিভাগের অর্থসংস্থানের অনুমোদনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। লুইসিয়ানার সেনেটর জন কেনেডি বলেছেন, ‘ডেমোক্র্যাটদের যে প্রস্তাব তা গ্রহণ করা উচিত। তারপর আইসিই-এর জন্য আলাদা অর্থসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’
মেজরিটি নেতা জন থুন রবিবার বলেছেন, আলোচনার জন্য আরও বিকল্পের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প তাঁর অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের সঙ্গে কাজ না করলে কোনও চুক্তি হবে না। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘আলোচনা ধ্বংস করার প্রচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা আন্তরিকভাবে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। তবে ট্রাম্পের কারণে আলোচনা ব্যাহত হচ্ছে।’
আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের বাধার কারণে সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। শুমার বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি ট্রাম্প তাঁর মনোভাব পরিবর্তন করবেন এবং আলোচনা অব্যাহত রাখবেন।’
মন্তব্য করুন