যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্যাকসিন সংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। একাধিক বিশিষ্ট চিকিৎসা সংস্থার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছেন, মারাত্মক করোনাভাইরাস মহামারী প্রতিরোধে সরকারের সিদ্ধান্তগুলো বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে গৃহীত হয়নি। বিশেষ করে সরকার করোনা টিকার সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা বিজ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে আদালত মত প্রকাশ করেছে।
এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্যনীতির বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের ব্যর্থতা বলে বিবেচিত হচ্ছে। রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র (আরএফকে জুনিয়র), যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক এবং ভ্যাকসিন বিরোধী মতবাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত, তাঁর নেতৃত্বে ভ্যাকসিন নীতিগুলো গড়ে উঠেছিল। আদালতের এই রায় ট্রাম্পের স্বাস্থ্য কৌশলের পুরো কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন সংক্রান্ত নীতিমালা নির্ধারণে সরকারকে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করবে।
বিচারক তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, সরকারের সিদ্ধান্তগুলো বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছিল কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। করোনা মহামারীকালে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল এবং অনেকেই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই রায় সেই প্রশ্নগুলোরই একটি আইনি নিরসন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে মার্কিন স্বাস্থ্যনীতির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সরকারকে এখন থেকে আরও স্বচ্ছ ও বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনাকারী চিকিৎসা সংস্থাগুলোও এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, সরকার জনস্বাস্থ্যের স্বার্থকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেছিল।
এদিকে, আরএফকে জুনিয়র তাঁর ভ্যাকসিন বিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সরকারের সিদ্ধান্তগুলো স্বাধীন ও স্বচ্ছ ছিল না এবং তিনি আদালতের রায়কে মানতে অস্বীকার করেছেন। তাঁর সমর্থকরা এই রায়কে সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালতের এই রায় মার্কিন স্বাস্থ্যনীতিতে বৈজ্ঞানিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবে এবং ভবিষ্যতে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করবে।
সূত্র: NEW YORK TIMES
মন্তব্য করুন