যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালীন এক সাংবাদিক তাঁকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক আক্রমণের আগে মার্কিন মিত্রদের উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ না করার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। সেই প্রসঙ্গেই ট্রাম্প পার্ল হারবারের কথা উল্লেখ করেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু করার আগে সব তথ্য প্রকাশ করা সবসময় সম্ভব নয়। পার্ল হারবারের মতো ঘটনা থেকেই আমরা শিক্ষা নিয়েছি যে, শত্রুপক্ষকে আগে থেকেই সতর্ক করার অর্থ হতে পারে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সামরিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। বৈশ্বিক রাজনীতিতে মার্কিন-জাপান সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় এই বৈঠককে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, মার্কিন প্রশাসনের এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মনোভাব মার্কিন মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বিষয়টি সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পার্ল হারবারের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আসলে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতার উপর জোর দিতে চেয়েছেন। তবে একই সঙ্গে এই ধরনের বিবৃতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কূটনীতিকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে। ট্রাম্প ও তাকাইচির বৈঠকেও এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন