যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলতে চলেছে ভোটার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত একটি নতুন বিল। সিনেটে আলোচনাধীন এই বিলটির মাধ্যমে প্রস্তাব করা হয়েছে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে কার্যত নিষিদ্ধ করে দেওয়া। রিপাবলিকান দলের নেতারা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করে বলছেন, ভোটার পরিচয়পত্রের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপটি মূলত নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে এবং বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও দূরবর্তী অঞ্চলের ভোটারদের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রথাটি যুক্তরাষ্ট্রে বহুদিন ধরে প্রচলিত। বিশেষ করে মহামারীকালে এই পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রিপাবলিকান দল এখন এই প্রথাটিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের যুক্তি হলো, ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়া ডাকযোগে ভোট দেওয়া সম্ভব নয় এবং এর ফলে নির্বাচনের বৈধতা নিশ্চিত করা যাবে। তবে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এই প্রস্তাবকে নির্বাচনের অধিকারের উপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে। তারা বলছেন, এমন পদক্ষেপের ফলে বহু মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এরই মধ্যে সিনেটে আলোচনাধীন বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভোটার আইডি বিল’। এই বিলটির মাধ্যমে ভোটারদের জন্য একটি বৈধ পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হবে। সেই সাথে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা দাবি করছেন, এই পদক্ষেপ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে। কিন্তু সমালোচকরা মনে করছেন, এই বিলটির ফলে নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। কারণ, অনেক রাজ্যে ভোটার পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা ইতিমধ্যেই রয়েছে, কিন্তু তারপরও নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ উঠছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় এই ধরনের পরিবর্তন যে কোনও সময়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মহামারীকালে যে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছিল, সেই প্রবণতাটিকে আবারও ফিরিয়ে আনা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ট্রাম্পের নির্বাচনী পরাজয়ের পর তার দেওয়া ‘ভোট জালিয়াতির অভিযোগের’ সাথে তুলনা করছেন। ট্রাম্প বারবার দাবি করে এসেছেন যে, ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ফলে নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে। যদিও কোনও প্রমাণ ছাড়াই তিনি এই অভিযোগ তুলেছেন।
এই প্রস্তাবটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই সিনেটে এই বিলটির বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলছেন, নির্বাচনের অধিকার হলো প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং তা কেড়ে নেওয়া যাবে না। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের নেতারা দাবি করছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়া নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না।
এই বিতর্কের মাঝেই অনেকেই মনে করছেন, ভোটার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত এই বিলটি আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রথাটি মূলত শহরাঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তরুণ ভোটাররা বেশি ব্যবহার করেন। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলের অনেক ভোটারই এখনও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে এই বিলটি কার্যত নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করার একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন