যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সম্মুখভাগের নিরাপত্তায় নিয়োগের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্দেশ পালনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা (আইসিই)। সরকারি বাজেট ঘাটতির কারণে চলমান আংশিক সরকারি স্থগিতাবস্থার মধ্যে এই নির্দেশ আসে। একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, শনিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা যদি অভিবাসন বিষয়ক সংস্থাগুলোর অর্থায়নের বিষয়ে সম্মত না হন, তাহলে তিনি আইসিই কর্মকর্তাদের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা প্রদানের নির্দেশ দেবেন। পরবর্তী পোস্টে তিনি বলেন, সোমবার থেকে আইসিই কর্মকর্তাদের বিমানবন্দরে মোতায়েন করা হবে।
ট্রাম্পের এই নির্দেশ আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল। সূত্রগুলো জানিয়েছে, কর্মকর্তারা এখন এই নির্দেশ পালনের জন্য পরিকল্পনা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একজন অভ্যন্তরীণ সূত্র জানান, ‘আমরা কী করছি তা নিয়ে আমার কোনো ধারণাই নেই।’ সম্প্রতি দেশজুড়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টগুলোতে লাইনের দৈর্ঘ্য বেড়েছে। এর কারণ হিসাবে দায়ী করা হচ্ছে ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) কর্মীদের মধ্যে কয়েকশত পদত্যাগ এবং অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিতির ঘটনা। সরকারি স্থগিতাবস্থার কারণে কর্মীদের বেতন বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শনিবারে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী অনুপস্থিত ছিলেন, যার সংখ্যা ছিল তিন হাজার ২৫০-এরও বেশি। ডিএইচএস সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে চার শতাধিক কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের অভিবাসন বিষয়ক প্রধান টম হোম্যান সিএনএনকে জানান, তিনি প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি টিএসএ এবং আইসিই প্রধানদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান। হোম্যান বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের প্রবেশ ও নির্গমন পথের নিরাপত্তা প্রদান করতে পারেন, যাতে টিএসএ কর্মীরা যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ে মনোনিবেশ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা যাত্রীদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের কাজেও সহায়তা করতে পারেন।
তবে হোম্যান স্পষ্ট করে বলেননি যে, বিমানবন্দরে মোতায়েন করা আইসিই কর্মকর্তারা অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজও করবেন কিনা। তিনি শুধু উল্লেখ করেন যে, তারা নিয়মিতভাবে অভিবাসন আইন প্রয়োগ করে থাকেন। আইসিই কর্মকর্তাদের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে একজন সাবেক আইসিই কর্মকর্তা বলেন, অভিবাসন আইনের অধীনে আইসিই কর্মকর্তারা যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারেন, যদি তারা মনে করেন ওই ব্যক্তি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তবে তিনি বলেন, বিমানবন্দরের মতো প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন এমন ক্ষেত্রে আইসিই কর্মকর্তারা তেমন উপযুক্ত নয়। তাদের মূল কাজ অভিবাসন সংক্রান্ত হওয়ায় বিমানবন্দরের স্ক্রিনিং যন্ত্র পরিচালনা জানা তাদের নেই।
সাবেক এই কর্মকর্তার মতে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) অফিসারদের নিয়োগের বিষয়টি বেশি যুক্তিযুক্ত হতে পারে। কারণ অনেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের কাজ অভিবাসন সংক্রান্ত চেক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ডিএইচএস-এর ভারপ্রাপ্ত সহকারী সচিব লরেন বিস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা যখন বিমান ভ্রমণের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে, ঠিক তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেস দ্বারা অর্থায়িত শত শত আইসিই কর্মকর্তাকে বিমানবন্দরে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন বলেন, ‘আইসিই-এর কর্মকর্তারা সবসময়ই দেশকে নিরাপদ রাখার জন্য প্রস্তুত থাকেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকানরা বিমানে উঠতে পারছেন না, কষ্ট করে কাজ করা টিএসএ কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। চার শতাধিক টিএসএ কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা যদি সরকারকে অর্থায়ন করতে রাজি হন, তাহলে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটবে।’ কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা আইসিই কর্মকর্তাদের মুখোশ পরিহিত অবস্থায় অভিযান পরিচালনা নিষিদ্ধ করার মতো কয়েকটি অভিবাসন আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা পুরোপুরি অর্থায়নে রাজি হবেন না বলে জানিয়েছেন।
ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ইউনিয়ন কর্মীরা আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, টিএসএ কর্মীদের বেতন দেওয়ার বিষয়ে সমাধান খুঁজতে হবে। তারা আইসিই কর্মকর্তাদের বিমানবন্দরে প্রবেশের বিষয়টিকে ‘আমেরিকানদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইউনিয়নটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘টিএসএ কর্মীদের প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। কারণ তারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আইসিই কর্মকর্তারা তা দ্রুত শিখতে পারবেন না।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইসিই কর্মকর্তাদের বিমানবন্দরে প্রবেশের ফলে যাত্রীদের অভিবাসন সংক্রান্ত প্রশ্ন করা তাদের নিরাপত্তা প্রদানের প্রধান কাজ থেকে বিভ্রান্ত করতে পারে।’
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমেরিকার প্রতি হামলার ঝুঁকি বাড়ার কথা উল্লেখ করে ইউনিয়নটি বলেছে, ‘আমাদের সমাধান সহজ: যারা সন্ত্রাসী হামলা থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য প্রশিক্ষিত তাদের বেতন দিন।’
মন্তব্য করুন