যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক বিস্ময়কর দাবি করেছেন যে, তাঁর পূর্বসূরি কোনো একজন প্রেসিডেন্ট তাঁকে ইরান বিষয়ে তাঁর অন্যতম একটি ভুল সিদ্ধান্তের জন্য গভীর অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্রচারণায় এই কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন যে, ইরান নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্তটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল।’ তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে যে, ট্রাম্পের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের সাথে যোগাযোগ করে দেখা গেছে যে, এমন কোনো কথোপকথন ঘটেনি।’
নিউ ইয়র্ক টাইমস তাঁদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী তিন প্রেসিডেন্ট—বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং বিল ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করেছে। তাঁদের সবাই এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। একজন সূত্র জানিয়েছেন, ‘ট্রাম্পের এই দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। কোনো পূর্বসূরি প্রেসিডেন্টই তাঁর কাছে এমন কথা বলেননি।’ অন্য একজন সূত্র আরও যোগ করেন, ‘ট্রাম্প প্রায়ই নিজের কথাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু এ ক্ষেত্রেও তিনি একই পন্থা অবলম্বন করেছেন।’
এই ঘটনা ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর বিরোধীরা ইতিমধ্যেই তাঁকে বারবার মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের ইরান নীতির সমালোচনা বহুদিন ধরেই চলছে। তাঁর পূর্বসূরিরা ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, যা ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতায় আসার পর থেকে বারবার সমালোচনা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে এই চুক্তি থেকে সরে আসার পর ইরান আরও বেশি করে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে।’
ট্রাম্পের এই দাবি কেবল তাঁর নিজের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এবং ভবিষ্যত কর্মকাণ্ড নিয়েও নতুন করে জল্পনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প তাঁর পরবর্তী নির্বাচনী প্রচারণায় এই বিষয়টিকে কাজে লাগাতে পারেন। তবে তাঁর বিরোধীরা ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও এই দাবির সমর্থনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্প তাঁর প্রচারণায় প্রায়ই অতীতের ঘটনাকে নিজের অনুকূলে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর বিরোধীরা তাঁর এই কৌশলের বিরুদ্ধে আরও বেশি করে সোচ্চার হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তাঁর সমর্থকরা তাঁর দাবিকে সমর্থন করলেও বিরোধীরা তাঁকে বারবার মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিহিত করছেন। রাজনীতির এই খেলায় কে জিতবে তা সময়ই বলে দেবে।’
সূত্র: NEW YORK TIMES
মন্তব্য করুন