আমেরিকার স্টক মার্কেটে সোমবার সকালে বিস্ময়কর উল্লম্ফন দেখা গেছে। ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচকটি এক দিনেই ১,০৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ওঠার পর শেষ পর্যন্ত ৬৩১ পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি নিয়ে শেষ হয়েছে, যা ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধির সমান। সূচকটি শেষ হয়েছে ৪৬,২০৮ পয়েন্টে। একইভাবে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে ১.১ শতাংশ এবং টেক-হেভি নাসড্যাক কম্পোজিট সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে ১.৪ শতাংশ।
এই উল্লম্ফনের কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে নিয়ে নতুন ঘোষণা। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য দেওয়া আল্টিমেটাম স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ‘ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনায় লিপ্ত রয়েছে। এর আগে তিনি সোমবার রাতের মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে না পারলে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন।
তেলের বাজারেও প্রভাব পড়েছে এই ঘোষণার ফলে। ব্রেন্ট ক্রুড মূল্য সোমবার সকালে প্রায় ৯৬ ডলারে নেমে আসে, যদিও পরে সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১০১.২৬ ডলারে। গত সপ্তাহে এর মূল্য ছিল প্রায় ১২০ ডলার। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের মূল্য প্রায় ৮৪ ডলারে নেমে আসার পর সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯০.১১ ডলারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য ট্রাম্পের ঘোষণাকে অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে কোনও আলোচনা চলমান নয়। যদিও তেলের দাম সামান্য কমেছে, তবুও ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অর্থাৎ গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে তেলের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এক গ্যালন গ্যাসোলিনের মূল্য গড়ে ৩.৯৬ ডলার, যা এক মাস আগের তুলনায় প্রায় ১ ডলার বেশি।
স্টক মার্কেট বিশ্লেষক অ্যাডাম ক্রিসাফুলি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি এক চূড়ান্ত সংকটের মুখোমুখি ছিল, যা ট্রাম্পের দুই মেয়াদের মধ্যেও দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের নিজেকে বাঁচানোর প্রবণতা এতই প্রবল যে তিনি নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবেন না।’ অন্যদিকে ইট্রেডের পরিচালক ক্রিস লারকিন মনে করেন যে এই উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার জন্য আরও স্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও স্থায়ী সমাধানের দিকে যেতে আরও পদক্ষেপ দরকার।’
মন্তব্য করুন