শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীপাড়ে আজ শুক্রবার দুপুরবেলা হঠাৎই নামল প্রবল ঝড়। সেই ঝড়ের তাণ্ডবে পদ্মার উত্তাল জলে ডুবে গেল তিনটি সিমেন্টবোঝাই ট্রলার। ট্রলারগুলোয় ছিল প্রায় ছয় হাজার ব্যাগ সিমেন্ট। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নড়িয়া উপজেলার বাঁশতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও নৌ-পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রলারগুলোর চালক ও শ্রমিকেরা দ্রুত সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ সিমেন্টের ক্ষতির কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে এক ট্রলার চালক দেলোয়ার হোসেন জানান, তাঁরা ঢাকা থেকে সিমেন্ট নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হঠাৎই প্রবল ঝড় ও উঁচু ঢেউয়ের মুখোমুখি হন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড ঢেউ আর ঝড়ের তাণ্ডবে আমাদের তিনটি ট্রলারই ডুবে যায়। ট্রলারগুলোয় ছিল প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগ সিমেন্ট। জীবন বাঁচাতে আমরা লাফিয়ে পড়ি নদীতে। স্থানীয় মানুষজন আমাদের উদ্ধার করেন।’
নৌ-পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, একই সময়ে পদ্মা নদীর বিভিন্ন নৌপথে অন্তত আটটি যাত্রীবাহী ট্রলারও প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে। তবে চালকেরা দ্রুত যাত্রীদের তীরে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌপথ, কাচিকাটা–চরভাগা নৌপথ ও নড়িয়া চরআত্রা–নওপাড়া নৌপথে এই ঘটনা ঘটে। সুরেশ্বর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল জলিল জানান, ‘ঝড়ের কারণে তিনটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক খবর পাওয়া গেছে। চালকেরা সাঁতরে তীরে উঠে আসায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়েছিল, কিন্তু চালকেরা যাত্রীদের নিরাপদে তীরে নামিয়ে দিতে সক্ষম হন।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগ সিমেন্ট হারিয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পদ্মা নদীর এই অংশে ব্যবসায়ীরা প্রায়শই সিমেন্ট, বালি ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, ‘এই সিমেন্ট হারিয়ে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। আবহাওয়া পূর্বাভাস আরও খারাপ হলে আগামী দিনগুলোতে যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।’
অপরদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত উর রহমান জানান, ‘আমরা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ট্রলারগুলোর লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র বৈধ ছিল। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও ভালোভাবে অনুসরণ করা উচিত ছিল বলে মনে করছি।’ তিনি আরও জানান, স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে চলেন।
মন্তব্য করুন