চীনের প্রযুক্তি মহীরুহদের মধ্যে এখন এক নতুন বিপ্লবের জোয়ার। সম্প্রতি ওপেনক্ল’কে কাজে লাগিয়ে তারা রোবট প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। চীনের ঘরের মধ্যে ব্যবহৃত রোবট থেকে শুরু করে হাঁটতে সক্ষম মানব সদৃশ রোবটগুলিতেও এখন ওপেনক্ল’এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এক গ্রাহক ইলেকট্রনিকস প্রদর্শনীতে ইকোভ্যাক্স নামে একটি বাড়ির রোবট কোম্পানি তাদের নতুন রোবট ‘বাজি’ উন্মোচন করেছে, যেটি ওপেনক্ল’এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত। বিজ্ঞাপনে এটিকে ‘ঘরের চাকর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা জুতো গুছিয়ে রাখা থেকে শুরু করে খেলনা সরিয়ে রাখার মতো কাজ করতে সক্ষম। ইকোভ্যাক্সের প্রতিষ্ঠাতা কিয়ান ডংকি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের রোবট আরও বেশি ঘরের কাজ নিজের কাঁধে তুলে নেবে।
তবে শুধু গৃহস্থালির রোবটেই নয়, চীনের অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও ওপেনক্ল’এর ব্যবহার শুরু করেছে। ইউনিট্রী নামে একটি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের মানব সদৃশ রোবট জি-১-এর মধ্যে ওপেনক্ল’কে সংযুক্ত করেছে, যার ফলে এটি আদেশ অনুযায়ী কাজ করার পাশাপাশি বাস্তব পরিবেশে চলাফেরা করতে সক্ষম হচ্ছে। একইভাবে, এজিলেক্স রোবটিক্স নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান তাদের রোবোটিক হাত নিয়ন্ত্রণের জন্য ওপেনক্ল’কে ব্যবহার করার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিক ভাষায় রোবটকে নির্দেশনা দিতে পারবেন। চীনের আরেক বিশাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমিও তাদের স্মার্টফোন ও স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলিতে ওপেনক্ল’এর নিজস্ব সংস্করণ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে।
চীনের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এখন ওপেনক্ল’এর ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। অনেকে নিজেদের ডিভাইসে এজেন্টটি ইনস্টল করতে অন্যদের কাছে অর্থ প্রদান করছেন আবার কেউবা টেনসেন্টের শেনঝেন সদর দপ্তর বা বায়দুর বেইজিং অফিসে গিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সাহায্য নিয়ে সেটআপ করছেন। এই ওপেনক্ল’ উন্মাদনার আরেকটি কারণ হলো ‘লবস্টার পালন’ নামে একটি ভাইরাল শব্দগুচ্ছ, যা দৈনন্দিন কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করার জন্য ওপেনক্ল’কে ব্যবহার করার বর্ণনা দেয়। চাহিদা মেটাতে টেনসেন্ট, আলিবাবা ও বাইটড্যান্স সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সংস্করণ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন ওপেনক্ল’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত মাসে মেটার অ্যালাইনমেন্ট পরিচালক সামার ইউয়ে তার ইনবক্সে ওপেনক্ল’কে সংযুক্ত করেন এবং পরে এক্স পোস্টে জানান যে বটটি তার ইমেইল মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে যেন বোমা নিষ্ক্রিয় করতে হবে এমন ভাব নিয়ে আমার ম্যাক মিনি-তে দৌড়াতে হয়েছে।’ এছাড়াও, আরও একটি ঘটনায় মেটার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জারি করেছে কারণ একটি এআই এজেন্ট অনুমোদন ছাড়াই কাজ শুরু করেছিল এবং সংবেদনশীল কোম্পানি ও গ্রাহকের তথ্য অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সামনে প্রকাশ করেছিল। প্রযুক্তি নেতারা এই বিষয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। ইলন মাস্ক সম্প্রতি এক্স-এ একটি বানরের হাতে রাইফেল তুলে দেয়া ছবি পোস্ট করে ক্যাপশন দেন, ‘মানুষ তাদের পুরো জীবনের রুট অ্যাকসেস ওপেনক্ল’কে দিচ্ছে।’ এমনকি এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং, যিনি প্রযুক্তিটিকে প্রশংসা করেছেন, তিনি আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠান নিজস্ব এজেন্ট সিস্টেম ‘নেমোক্ল’ নিয়ে কাজ করছে যার মূল লক্ষ্য হবে নিরাপত্তা।
মন্তব্য করুন