গোপালগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে যখন ঈদের আনন্দ উচ্ছ্বাসে মুখরিত, ঠিক তখনই গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুসভা এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে। তাদের মূলমন্ত্র ছিল—‘প্রকাশ্যে নয়, মানবসেবা চলুক রাতের আঁধারে।’ এজন্য তারা পরিচালনা করেন ‘সহমর্মিতার ঈদ’ শীর্ষক মানবিক কর্মসূচি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জের গোবরা ও আশেপাশের এলাকার পঞ্চাশটি নিম্নবিত্ত পরিবারের কাছে গোপনে পৌঁছে দেওয়া হয় ঈদের উপহার সামগ্রী। রাতের নির্জনতায় পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি মানবিকতার প্রকৃত চেতনাকে তুলে ধরেছেন সংগঠনের সদস্যরা।
গোবরা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে রাত প্রায় দশটার দিকে যখন চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে আসে, তখনই শুরু হয় তাদের কার্যক্রম। সাদা পোশাকে সদস্যরা দলবদ্ধভাবে প্রতিটি পরিবারে গিয়ে উপহার সামগ্রী তুলে দেন। উপহারের মধ্যে ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য যেমন চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, মসলা এবং সর্বোপরি ঈদের আনন্দকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রতিটি পরিবারের সদস্যের জন্য নতুন পোশাক। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও অনুভব করতে পেরেছে বলে জানান উপকারভোগীরা।
উপহার বিতরণ শেষে কয়েকজন উপকারভোগীর মুখে দেখা যায় আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার ছাপ। তাদের একজন বলেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরেই এমন কিছু পাইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা আমাদের ভুলে যাননি, এটা আমাদের জন্য বিরাট পাওয়া।’ আরেকজন জানান, ‘এমন উদ্যোগ আমাদের কাছে ঈদের চেয়েও বেশি মূল্যবান।’ তাঁদের এই আবেগঘন প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সংগঠনের সদস্যদের উদ্যোগের সার্থকতা।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উপদেষ্টা সালমান হোসেনের সার্বিক নির্দেশনায় এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, ‘মানবসেবা কোনো প্রচারমূলক কর্ম নয়; এটি হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত একটি আবেগ। আমাদের লক্ষ্য ছিল সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটানো, আর তা গোপনে হলেও তা আরও বেশি অর্থবহ।’ তাঁর দিকনির্দেশনায় সদস্যরা প্রতিটি পরিবারে উপহার পৌঁছাতে সক্ষম হন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জানান, ‘আমরা বিশ্বাস করি মানবসেবা তখনই প্রকৃত অর্থে সুন্দর হয়ে ওঠে যখন তা নির্লোভ ও নিরাবরণ হয়। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যেন অন্যরাও অনুসরণ করেন এবং সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন ঈদের আনন্দ সমানভাবে ভাগাভাগি করতে পারে।’ তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবেন এবং এমন মানবিক উদ্যোগগুলোকে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেবেন।
এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা প্রমাণ করেছে যে, মানবিকতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে প্রচার নয়, বরং কার্যক্ষেত্রেই তার প্রকৃত মূল্য। তাদের এই কাজ সমাজে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন