জাতিসংঘের এক শান্তি বোর্ডের সদস্য জানিয়েছেন, গাজা উপত্যকা থেকে হামাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্রগুলি আগে সংগ্রহ করা হবে। তিনি অস্ত্র বিসর্জনের সাথে গাজা পুনর্গঠনের সূচনা জড়িত থাকার বিষয়টিকে যুক্ত করেছেন। এই পরিকল্পনা সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, যেখানে হামাস পরিচালিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী এই সদস্য আরও বলেন, হামাসের অস্ত্রাগার থেকে প্রথম ধাপে ভারী অস্ত্র, রকেট লঞ্চার এবং অন্যান্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রগুলি জমা নেওয়া হবে। এর সাপেক্ষে গাজায় পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি। তবে এই প্রক্রিয়ার সফলতা নির্ভর করবে হামাসসহ অন্যান্য দলের সহযোগিতার উপর।
এই পরিকল্পনার বিস্তারিত আলোচনা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে উঠে এসেছে। সূত্রমতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গাজার জনগণের মানবিক সংকট কতটা প্রশমিত হবে তা নিয়ে রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন।
অন্যদিকে, ইসরায়েল সরকার এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাজা থেকে হামাসের অস্ত্র বিসর্জনের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হবে।’ তবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নটি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে। কারণ, গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের সামরিক শক্তির উপর নির্ভরশীল। এছাড়া, গাজার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করাও কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গাজা উপত্যকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা সফল হবে তা নির্ভর করছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার উপর। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র অস্ত্র বিসর্জনের মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, প্রয়োজন জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সমাধান।
মন্তব্য করুন