অ্যামাজনের পাশাপাশি ডোরড্যাশ ও উবার-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন গিগ কর্মীদের নতুন নতুন কাজের সুযোগ দিচ্ছে। খাবার পরিবহন বা যাত্রী বহনের বাইরে এসব কর্মীরা এখন স্টোর স্টকের ছবি তুলে দিচ্ছেন, এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন অথবা স্বায়ত্তশাসিত ডেলিভারি যানবাহনের পথনির্দেশনা দিচ্ছেন। এমন পরিবর্তন দেখে মনে হচ্ছে গিগ অর্থনীতি শীঘ্রই আরও বহুমুখী হয়ে উঠতে চলেছে।
ডোরড্যাশ সম্প্রতি তাদের কর্মীদের জন্য নতুন ধরনের ‘টাস্ক’ চালু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে দোকানের তাকের ছবি তোলা, স্ব-চালিত ডেলিভারি যানের রুট পুনরুদ্ধারে সাহায্য করা এবং এমনকি এআই ট্রেনিংয়ের জন্য দৈনন্দিন কাজের ভিডিও ধারণ করা। অন্যদিকে উবার তাদের কর্মীদের মাধ্যমে এআই প্রশিক্ষণের কাজ করাচ্ছে, যেখানে ড্রাইভার থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত কর্মীরাও অংশ নিচ্ছেন। ইনস্টাকার্টও স্টোর স্টকের ছবি তুলে পণ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দিচ্ছে তাদের কর্মীদের।
অর্থনীতিবিদ টেইলর ম্যানলির মতে, এটি এমন একটি নতুন সমস্যার সমাধান যেখানে পুরনো সমাধান প্রয়োগ করা হচ্ছে। স্টোরের ইনভেন্টরি ট্র্যাকিং থেকে শুরু করে স্ব-চালিত যানের রুট নির্ধারণ—এসব কাজ ভবিষ্যতে এআই নিজেই করতে পারলেও বর্তমানে গিগ কর্মীরাই এই ভূমিকা পালন করছেন। ডোরড্যাশের একজন কর্মী টেক্সাসের একটি দোকানে প্রায় ১৮০টি ছবি তুলেছিলেন মাত্র ৩০ মিনিটে, যার জন্য তিনি প্রায় ৩৬ ডলার পেয়েছিলেন। যদিও এই কাজটি খাবার বহনের মতো শ্রমসাধ্য না হলেও তিনি পরবর্তীতে আবার স্টক ছবি তোলার পরিবর্তে খাবার সরবরাহের কাজকেই প্রাধান্য দিতে চান বলে জানিয়েছেন।
এসব নতুন ধরনের কাজগুলো মূলত গিগ কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত আয় হিসেবে বিবেচিত হলেও স্ব-চালিত যানবাহনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে গিগ কর্মীরা শুধু খাবার বা যাত্রী বহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
ডোরড্যাশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা তাদের কর্মীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটাতে চান। অন্যদিকে উবার তাদের কর্মীদের মাধ্যমে এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের প্রস্তুতিতে সহায়তা করছে। এমন পরিবর্তন গিগ অর্থনীতিকে আরও স্থায়ী ও বহুমুখী করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই নতুন ধরনের কাজগুলো কর্মীদের জন্য কতটা সুবিধাজনক হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কিছু কর্মী যেমন অতিরিক্ত আয় হিসেবে এই কাজগুলো করছেন, অন্যদিকে কিছু কর্মী আবার মূল কাজের ওপরেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে গিগ কর্মীদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হলে এই বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা ও আলোচনার প্রয়োজন দেখা দেবে।
মন্তব্য করুন