গণতান্ত্রিক দেশ কোস্টারিকা সম্প্রতি কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজেদের দূতাবাস হাভানায় বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কিউবার কূটনীতিকদেরকে কোস্টারিকার রাজধানী সান হোসে থেকে বিদায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোস্টারিকার রাষ্ট্রপতি রডরিগো চাভেজ স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “আমাদের অবশ্যই এই উপমহাদেশ থেকে কমিউনিস্টদের নির্মূল করতে হবে।” এই পদক্ষেপকে ঘিরে কিউবার সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কিউবার রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাপের মুখে পড়ে কোস্টারিকা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে সামাজিক মাধ্যমের একটি পোস্টে।
কোস্টারিকার এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থাকার অভিযোগ করেছে কিউবার সরকার। গত কয়েক মাস ধরে কিউবার ওপর মার্কিন চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি হয়তো কিউবাকে মুক্ত করবেন অথবা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবেন। কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগুয়েল ডিয়াজ-কানেল ঘোষণা করেছেন যে, যে কোনও বহিরাগত শক্তি কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে তারা প্রতিরোধের মুখোমুখি হবে।
কোস্টারিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্নল্ডো আন্দ্রে টিনোকো জানিয়েছেন, কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি এবং নাগরিক, কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা বৃদ্ধির কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টিনোকো বলেন, “আমরা কিউবার প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত কোস্টারিকার দূতাবাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সঙ্গে কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হচ্ছে তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের সান হোসের দূতাবাস থেকে প্রত্যাহার করতে, তবে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ব্যতিক্রম রাখা হবে।”
কোস্টারিকার এই পদক্ষেপ অনুসরণ করেছে ইকুয়েডরও। গত ৪ মার্চ ইকুয়েডরের সরকার কিউবার রাষ্ট্রদূত বাসিলিও গুটিয়েরেজকে বহিষ্কার করেছে, অভিযোগ করেছে তিনি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত রবিবার জানিয়েছেন যে কিউবা ও মার্কিন সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং শীঘ্রই তারা হয় কোনও চুক্তিতে পৌঁছাবেন নয়তো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা খুব শীঘ্রই কিউবার বিষয়ে কিছু করব।”
কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রতি ভেঙে পড়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহেও বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে কিউবার সরকারের ওপর চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোস্টারিকা ও ইকুয়েডরের মতো দেশগুলো কিউবার সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় কিউবার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে কিউবার ওপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন