খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল হলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে তিনি চার বছরের জন্য এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। তবে এবার দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক মাছুদকে পুনর্নিযুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুসারে, যোগদানের তারিখ থেকে তিনি চার বছরের জন্য কুয়েটের উপাচার্য ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁর উদ্দেশ্যে উপস্থিত সকলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ ইতোপূর্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান, হল প্রভোস্ট, সিআরটিএসের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল ও সম্মেলনে একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি একাধিক গ্রন্থ ও বুক চ্যাপ্টার রচনা করেছেন, যা তাঁকে শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দেশ-বিদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাঁর অবদান স্বীকৃত। তিনি ১৯৯৮ সালে বিআইটি খুলনা থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (মেকানিক্যাল) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জাপানের নাগোয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এমএসসি ও পিএইচডি এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ইউনিভার্সিটি অ্যাট এল পাসো থেকে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। তাঁর এই শিক্ষাগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতা তাঁকে কুয়েটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত করে তুলেছে।
নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক মাছুদ তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বিশ্বমানের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। তাঁর নেতৃত্বে কুয়েট যেন দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে আরও সমৃদ্ধি লাভ করে, সে প্রত্যাশা করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মন্তব্য করুন