মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন কথার মধ্যেই দেশজুড়ে বিরাজমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে কিউবার অর্থনীতিকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে কিউবার অর্থনৈতিক নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নিজেদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে কিউবা এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শিল্পমন্ত্রী সালভাদোর ভালদেস মেসা।
বিশ্ববাজারে কিউবার অর্থনীতির উপর চাপ অব্যাহত থাকায় দেশটির সরকার বিদেশি পুঁজির উপর নির্ভরতা বৃদ্ধির পথ বেছে নিচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে কিউবা। এক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ দেশটির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শিল্পমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই কিউবার অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
কিউবার অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশি বিনিয়োগ গ্রহণের মাধ্যমে কিউবা তার উৎপাদন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে কিউবার অর্থনীতি মূলত রাষ্ট্রনির্ভর এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল। তবে বিদেশি বিনিয়োগের ফলে এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কিউবা তার পর্যটন শিল্প, উৎপাদন খাত এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করতে পারে।
এর আগে কিউবার অর্থনীতি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য খুব একটা উন্মুক্ত ছিল না। দেশটির সরকার বিদেশি কোম্পানিগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রাখত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সরকার বিদেশি বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীলতার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। কিউবার সরকার ইতিমধ্যেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির সরকার যদি বিদেশি বিনিয়োগের ফলে সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি না ঘটিয়ে সমতা বজায় রাখতে পারে, তাহলে তাদের পরিকল্পনা সফল হতে পারে। অন্যথায়, বিদেশি বিনিয়োগ পররাষ্ট্র নির্ভরশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধানে কিউবার সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মত দিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে কিউবার অর্থনীতির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ গ্রহণের মাধ্যমে কিউবা মার্কিন নির্ভরশীলতা কমাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মার্কিন চাপের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা কিউবার জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
সূত্র: NEW YORK TIMES
মন্তব্য করুন