ঠাকুরগাঁও জেলার পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন শিল্পের অদ্ভুত গল্পটি আমাদের দেশের কৃষি ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায় খুলেছে। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে এই ‘কালো সোনা’ খ্যাত পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন শতগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে। এই অলৌকিক উন্নতির পেছনে রয়েছে কৃষকদের উদ্যোগ, সরকারি সহযোগিতা এবং বিশেষ করে মহিলা শ্রমিকদের অবদান।
ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় পেঁয়াজ বীজ চাষের দৃশ্য দেখলে কেউই মুগ্ধ হয়। বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে সাদা ফুলের সমারোহ দেখতে মনে হয় কীভাবে প্রকৃতি কৃষকদের সাথে মিলে কাজ করছে। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। মৌমাছি না থাকায় কৃষকরা নিজেরাই হাতে হাতে পরাগায়ন করছেন। এই কাজে যুক্ত হচ্ছেন এলাকার শত শত নারী-পুরুষ শ্রমিক। বিশেষ করে গ্রামীণ মহিলাদের জন্য এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
২০২০ সালে মাত্র ৪০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ শুরু হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৫ হেক্টরে। এই দ্রুত উন্নতির পেছনে রয়েছে পেঁয়াজ বীজের উচ্চ মুল্য এবং দ্রুত লাভের সম্ভাবনা। কৃষকরা জানান, মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে তারা যথেষ্ট লাভ করতে পারছেন।
এই সাফল্য আমাদের দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনকে বিশ্বব্যাপী প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে আমাদের প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। আমাদের দেশ থেকে উৎপাদিত এই উচ্চমানের পেঁয়াজ বীজ আমেরিকার মতো দেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও থেকে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত এই বীজের যাত্রা কৃষকদের জীবন পরিবর্তন করছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পেঁয়াজ চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় পেঁয়াজ বীজের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। গত বছর ৮ বিঘা জমিতে চাষ হতো, এবার ৫৪ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে।’ অন্যদিকে রোকসানা বিবি, একজন মহিলা শ্রমিক, জানান, ‘পেঁয়াজের ক্ষেতে পরাগায়নের কাজ করে আমি সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন ৪০০ টাকা পাই। এই কাজের কারণে আমাদের জীবন ধরে রেখেছে।’
কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জ। কৃষক জামাল বলেন, ‘আমরা সরকারিভাবে বীজ বিক্রি করতে পারছি না। যদি সরকারিভাবে বীজ বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হয় তাহলে আমরা দামের নিশ্চয়তা পেতাম।’ এই সমস্যা সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।
এই খবর আমাদের প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের কৃষি ক্ষেত্রের এই উন্নতি আমাদের গর্বের কারণ। আমাদের দেশ থেকে উৎপাদিত এই উচ্চমানের পেঁয়াজ বীজ আমেরিকার মতো দেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এটি আমাদের দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং আমাদের প্রবাসী সম্প্রদায়ের গর্বের কারণও বনাচ্ছে।
মন্তব্য করুন