গতকাল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে আফগান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আফগান কর্মকর্তাদের মতে, এই বিমান হামলাটি একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে চালানো হয়েছিল, যার ফলে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ সেলিম মুহাম্মদি জানিয়েছেন, ‘এই হামলা সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান দাবি করলেও তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি অস্ত্রাগার, কিন্তু বাস্তবে তা ছিল একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র।’
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে, তাদের বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল একটি অস্ত্রগুদাম। ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুয়াজ্জম খান জানান, ‘আমাদের অভিযান ছিল সন্ত্রাসবাদ বিরোধী এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছি।’ তবে আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার স্থানে কোনও অস্ত্রগুদাম ছিল না, বরং তা ছিল একটি জনবহুল এলাকা।’
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আফগানিস্তানের সরকার ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি টুইটারে লিখেছেন, ‘এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’ আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।’
পাকিস্তান সরকার অবশ্য দাবি করেছে যে, তাদের অভিযান ছিল আফগানিস্তানের মাটিতে অবস্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে। ইসলামাবাদের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিকার বলেছেন, ‘আমাদের অভিযান ছিল সন্ত্রাস দমনে অপরিহার্য। আফগানিস্তান যদি এই বিষয়ে কোনও তথ্য সরবরাহ করে, তবে আমরা তা যাচাই করব।’ তবে আফগান কর্মকর্তারা এই দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।’
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার পর পরই সেখানে ব্যাপক ধোঁয়া ও আগুনের উৎস দেখা গেছে। অনেকেই নিজেদের প্রিয়জনকে হারিয়ে শোক প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনও হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’
এই ঘটনার ফলে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই দেশের সরকারই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে আরও বৃদ্ধি করতে পারে।’
মন্তব্য করুন