একটি সাধারণ ক্রেতার সামান্য আবেগের ফলে কস্টকোর একটি পুরোনো তোয়ালে গরম করার যন্ত্র বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি রেডিটে একজন ব্যবহারকারী তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যেখানে তিনি প্রায় ৮৯.৯৯ ডলার মূল্যের হোমেডিক্স লাক্সে এক্সএল তোয়ালে গরম করার যন্ত্র মাত্র ১৯.৯৭ ডলারে কিনতে সক্ষম হন। তিনি তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘এমন দাম দেখে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছিল না।’ তাঁর শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, দোকানে যন্ত্রটির শেষ বাক্সটিও প্রায় বিক্রি হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তোয়ালে গরম করার যন্ত্র একসময় একটি বিলাসিতার সামগ্রী হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু শীতের সময় আরামের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন ঘরের সাধারণ সামগ্রীর তালিকায় স্থান পেয়েছে। অনেকেই এই যন্ত্রটি শুধু তোয়ালে গরম করার জন্যই নয়, জামাকাপড় শুকানো, সাঁতারের পোশাক গরম করা এমনকি ঘরের সামান্য উত্তাপ বৃদ্ধির জন্যও ব্যবহার করছেন। ওয়ামলি ইয়রস নামে একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এই যন্ত্রটির সাহায্যে ঘরের তাপমাত্রা সামান্য হলেও বৃদ্ধি করা যায় এবং এর পরিচালনা ব্যয়ও নগণ্য—প্রতিদিন মাত্র তিন সেন্টের মতো। ফলে গ্রীষ্মকালেও এর প্রচলন একেবারে কম নয়।
কস্টকোতে এই বিশেষ ডিলটি অনলাইনে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অনেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘নরওয়েতে হোটেলগুলোতে এটি সাধারণ ব্যাপার। সেখানে বেশিরভাগ সময়ই ঠান্ডা থাকে, তাই গরম তোয়ালে খুবই উপকারী।’ আরেকজন বলেছেন, ‘আমরা তোয়ালে ছাড়াও জামাকাপড় এবং বাথরোব গরম করতে এই যন্ত্রটি ব্যবহার করি। এটি আমাদের জন্য খুবই কাজের।’ এমনকি কেউ কেউ এটিকে সেরা উপহার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একটি গ্রাহক লিখেছেন, ‘আমি আমার স্বামীকে ক্রিসমাসে এই যন্ত্রটি উপহার দিয়েছিলাম। তিনি এখন প্রায়ই এটির প্রশংসা করেন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, কস্টকোর মতো প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের হঠাৎ মূল্যহ্রাস শুধু বিক্রয় বাড়ায় না, সেইসঙ্গে অনলাইন আলোচনার জন্ম দেয়। এটি প্রমাণ করে যে মানুষ এখন ঘরের ছোটখাটো উন্নতির দিকে মনোনিবেশ করছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও আরামদায়ক করে তোলে। শীতের সময় তোয়ালে গরম করার যন্ত্রের চাহিদা বাড়লেও বছরের অন্যান্য সময়েও এর ব্যবহার কম নয়। ফলে অনেকেই অনলাইনে বিকল্প পণ্য খুঁজছেন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের গরম করার যন্ত্র পাওয়া যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তাপমাত্রার তারতম্যের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আরামের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধির ফলে এই ধরনের পণ্যের চাহিদা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। তবে খুচরা বিক্রেতারা প্রায়ই মৌসুমি পণ্যের স্টক পরিবর্তন করেন, তাই আগামী শীতে এমন ডিল আবারও দেখা যেতে পারে। তবে সেগুলি সাধারণত সীমিত পরিমাণেই পাওয়া যাবে। তাই যারা কস্টকোর মতো ডিল পেতে চান, তাঁদের জন্য অনলাইন বিকল্পগুলো আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন