দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ার পুয়ের্তো লেগুইসামোতে সেনাবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় অন্তত ৬৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে একজন সেনাসদস্য অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার পান এবং আরও ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও চার সেনাসদস্যের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বিমানটি ছিল হারকিউলিস সি-১৩০ মডেলের একটি সামরিক পরিবহন বিমান। বিমানে সর্বমোট ১২৮ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্য। বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয় বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে জানা গেছে। বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীদের মধ্যে কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর ছয়জন, জাতীয় সেনাবাহিনীর ৫৮ জন এবং জাতীয় পুলিশের দুজন সদস্য ছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা মৃতদেহগুলোকে পুয়ের্তো লেগুইসামোর একটি ছোট মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় দুটি ক্লিনিক থেকে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাদের বৃহত্তর শহরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুয়ের্তো লেগুইসামো আমাজন অঞ্চলের পুটুমায়ো প্রদেশে অবস্থিত, যা ইকুয়েডর ও পেরুর সীমান্তবর্তী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে বিধ্বস্ত স্থানে কালো ধোঁয়ার মেঘ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া দেখা গেছে।
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘটনাটিকে একটি “বেদনাদায়ক দুর্ঘটনা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, বিধ্বস্ত বিমানটি কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে এখনও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সানচেজ তার বার্তায় বলেন, “এই দুর্ঘটনা কলম্বিয়ার জন্য গভীরভাবে ব্যথাদায়ক। আমরা আশা করি, আমাদের প্রার্থনা কিছুটা হলেও ব্যথা লাঘব করতে সাহায্য করবে।” তিনি আরও জানান, উদ্ধার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে এবং বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রো ঘটনাটিকে সামনে রেখে দেশের সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টাকে তুলে ধরেন। তিনি জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পেত্রো বলেন, “যদি কোনো বেসামরিক বা সামরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যর্থ হন, তাদের পদত্যাগ করতে হবে।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত বিমানের আগুন নেভাতে সেনাসদস্যরা তৎপর ছিলেন। পেত্রো তার বার্তায় আরও জানান, বিধ্বস্ত স্থানে দ্রুত উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণ এখনও অজানা রয়েছে।
মন্তব্য করুন