কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি ও ঝাউবাগানে আজ মঙ্গলবার দুপুরে শতাধিক অবৈধ দোকান বসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দখলদারির নতুন অধ্যায়। সরকারি নির্দেশনা ও উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ পর্যটকের চাপকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ব্যবসা শুরু করলেও বিকেলের দিকে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের সময় দখলদারদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের তীব্র বাক্য বিনিময় হয়, এমনকি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর বারোটার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি ও ঝাউবাগান এলাকা দখল করে শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো হয়। এর মধ্যে ছিল ভাজাপোড়া, মাছের রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান। পর্যটকের চাপকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেলে তারা স্বেচ্ছায় দোকান সরিয়ে নেবেন বলে জানান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানিয়েছেন, বিকেল তিনটায় যৌথ বাহিনী অভিযানে নামে এবং শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষার্থে বালিয়াড়িতে আর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
এর আগে গত ১২ মার্চ একই এলাকায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ৯৩০টি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে জেলা প্রশাসন এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই গত রোববার সুগন্ধা সৈকত পরিদর্শনে এসে জানান, উচ্ছেদ হওয়া এলাকায় আর কোনো দোকান বসতে দেওয়া হবে না এবং সৈকত যেন পুনরায় দখল না হয়, সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
কিন্তু তার নির্দেশনার পরপরই মঙ্গলবার দুপুরেই আবার দখলদারির ঘটনা ঘটায় পর্যটকদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সুগন্ধা বিচ মার্কেট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম বলেন, ‘ঈদ মৌসুমে পর্যটকের চাপ অনেক বেশি। রাস্তায় গাড়ি রাখলে যানজট সৃষ্টি হয়। বিকল্প জায়গা না থাকায় আমরা সৈকত ও ঝাউবাগানে দোকান বসিয়েছিলাম। প্রশাসন উচ্ছেদ করলেও পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।’
এদিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, গত দুই দশকে সুগন্ধা সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের ফলে সৈকতের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘উচ্ছেদ হওয়া এলাকা যেন আবার দখল না হয়, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।’
এদিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানান, উচ্ছেদ অভিযানের পর সৈকতের পরিবেশ আরও সুন্দর হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সৈকতের পরিবেশ যেন পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এ ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’
উল্লেখ্য, সুগন্ধা সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটাতে সরকার ও জেলা প্রশাসন বারবার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের দখলদারির প্রবণতা থামছে না। পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে এ বিষয়ে দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মন্তব্য করুন