স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলের দিকে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের ওহাইয়ু থেকে সরে গিয়ে মহীউ দ্বীপের দিকে ধেয়ে যাওয়ার খবরে হাজার হাজার মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের (এনওএএ) আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রবিন্দু মহীউয়ের দিকে সরে যাওয়ার ফলে ওহাইয়ু দ্বীপে জারি করা সকল প্রকার জরুরি অবস্থা ও বাধ্যতামূলক উচ্ছেদ আদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ তাদের নিজ নিজ ঘরে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন।
তবে মহীউ দ্বীপের অধিবাসীদের এখনও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এনওএএ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি মহীউয়ের দিকে ধেয়ে যাওয়ায় দ্বীপটিতে প্রবল বৃষ্টিপাত, তীব্র ঝড়ো হাওয়া এবং সম্ভাব্য ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই মহীউয়ের উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। মহীউ দ্বীপের গভর্নর বলেছেন, ‘আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি, নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করুন। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিক সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।’
এদিকে ওহাইয়ু দ্বীপে ফিরে আসা মানুষেরা তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে শুরু করলেও মহীউ দ্বীপে এখনও অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। মহীউ দ্বীপের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ‘আমরা এখনও নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছি। সরকারি কর্মকর্তারা বারবার আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।’ ঘূর্ণিঝড়টির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, মহীউ দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে রবিবারের মধ্যেই। ফলে স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই জরুরি ত্রাণ সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বিপর্যয় মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মহীউ দ্বীপের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট অতিবৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
গত কয়েক বছরে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি করে অনুভূত হচ্ছে। মহীউ দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব কতটা মারাত্মক হবে তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে জনগণকে সর্বদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন