কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির যুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কর্মীদের নিজেদের দিকে টানছে এবং পরবর্তীতে তাদেরকে বিভিন্ন স্টার্টআপে নিয়োগ দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওপেনএআই কর্মীদের গড় নিয়োগকাল মাত্র ১৬ মাস। এর অর্থ দাঁড়ায়, কর্মীরা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে ওপেনএআইতে যোগ দিচ্ছেন, কিছুদিন কাজ করার পর আবার অন্য স্টার্টআপ বা প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন। এই প্রবণতাই ওপেনএআইকে পরিণত করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইকোসিস্টেমের কেন্দ্রবিন্দুতে।
২০২৩ সালে চ্যাটজিপিটি চালু হওয়ার পর থেকেই ওপেনএআই দ্রুত বড় হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী সংখ্যা মাত্র এক বছরে প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। লাইভ ডেটা টেকনোলজিস নামক প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত তিন বছরে ওপেনএআই প্রায় ১৩০০ কর্মীর কর্মজীবনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এই তথ্য অনুযায়ী, কর্মীদের এক চতুর্থাংশই গুগল থেকে এসেছেন। অর্থাৎ গুগলই ওপেনএআইয়ের প্রধান কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে মেটা, অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট থেকেও প্রচুর কর্মী নিয়োগ দিয়েছে ওপেনএআই। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপলের প্রাক্তন ডিজাইন প্রধান জোনি আইভও ওপেনএআইতে যোগ দিয়েছেন, যেখানে প্রায় ৩০০ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অ্যাপল থেকে।
ওপেনএআইয়ের কর্মীদের গড় বেতনও বেশ চমকপ্রদ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা গড়ে ১৫ লাখ ডলার মূল্যের স্টক ভিত্তিক ক্ষতিপূরণ পান। এছাড়া এইচ-ওয়ান ভিসা আবেদনপত্র থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গবেষণা বিজ্ঞানীরা বছরে ২ লাখ ৪৫ হাজার থেকে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ডলার আয় করেন, যেখানে প্রকৌশলীদের বেতন ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের মধ্যে। এই বিপুল অর্থের আকর্ষণেই কর্মীরা ওপেনএআইতে যোগ দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ওপেনএআই থেকে কর্মীদের চলে যাওয়ার গল্পটিও বেশ আকর্ষণীয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত তিন বছরে ওপেনএআইয়ের প্রায় ১৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা চলে গেছেন। বেশিরভাগ কর্মীই ছোট স্টার্টআপ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম অথবা শিক্ষাক্ষেত্রের দিকে গেছেন। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ওপেনএআই থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো অ্যানথ্রোপিক, মেটা, গুগল এবং থিংকিং মেশিনস ল্যাব। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, অ্যানথ্রোপিক প্রতিষ্ঠাটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রাক্তন ওপেনএআই গবেষক দারিও অ্যামোদি ও ড্যানিয়েলা অ্যামোদি। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানটির ভিপি অব রিসার্চ ম্যাক্স শোয়ার্জার ওপেনএআই ছেড়ে অ্যানথ্রোপিকে যোগ দিয়েছেন।
এছাড়া ওপেনএআইয়ের কর্মীদের মধ্যে একাংশ আবার নিজেরাই স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেছেন। যেমন থিংকিং মেশিনস ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতাদের অনেকে পূর্বে ওপেনএআইয়ের কর্মী ছিলেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে তারা কিছুদিন পর আবার ওপেনএআইতে ফিরেও এসেছেন। এই তথ্যই প্রমাণ করে যে ওপেনএআই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইকোসিস্টেমের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে, যেখানে কর্মীরা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছেন এবং নতুন উদ্ভাবনের জন্ম দিচ্ছেন।
মন্তব্য করুন