এয়ারপোর্টে বিমান ধরতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে ভ্রমণকারীদের। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে টিএসএ (ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) এর লাইনে দাঁড়িয়ে সময়ের হিসাব রাখছেন যাত্রীরা। সামাজিক মাধ্যম টিকটকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে কীভাবে বিমান ধরতে গিয়ে যাত্রীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে সময় কাটাচ্ছেন।
হিউস্টনের একটি বিমানবন্দর থেকে ভ্রমণকারী এক মহিলা টিকটকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তিনি দেখান তার ফোনে থামওয়াচ চালু করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায় তিনি বিমান ধরতে আট ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছান। তার থামওয়াচে দেখানো হয় দুই ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাকে। তিনি তার ক্যাপশনে লেখেন, ‘আইএইচ বিমানবন্দর এখন একটা চিড়িয়াখানা! গতকাল টিএসএ লাইনে দাঁড়াতে দাঁড়াতে আমাদের ফ্লাইট মিস হয়েছিল, তাই আজ আর ঝুঁকি নিতে চাইনি।’ অন্যদিকে অ্যাটলান্টার এক যাত্রী তার লাইনের সময় গণনা করে তিন ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট পর্যন্ত থেমেছিলেন। তার মন্তব্য ছিল, ‘এটা একেবারে পাগলের মতো!’
টিকটকের অন্যান্য ব্যবহারকারীরাও তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। একজন লেখেন, ‘টিএসএ কর্তৃপক্ষের ঘোষণা: দয়া করে আপনার ফ্লাইটের পাঁচ থেকে দশ দিন আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছে যাবেন।’ আরেকজন ব্যঙ্গ করে জিজ্ঞেস করেন, ‘আমার ফ্লাইট এক মাস পরে। আমি কি এখনই বিমানবন্দরে যাব?’ অনেকে আবার বিকল্প উপায়ের কথাও ভাবছেন। একজন লিখেছেন, ‘যদি ড্রাইভ করে গন্তব্যে যেতে দশ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে, তাহলে গাড়িতেই যাওয়া ভালো। কল্পনা করুন পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, ততক্ষণে তো আপনি গন্তব্যের অর্ধেক পথও পাড়ি দিতে পারবেন।’
এই পরিস্থিতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের অব্যবস্থাপনা ও কর্মী স্বল্পতাকে দায়ী করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন টিএসএ কর্মীদের সাহায্য করার জন্য অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী কর্মীদের নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু টিএসএ কর্মীরা জানিয়েছেন, আইসিই কর্মীরা তাদের কাজে সাহায্য করছেন না। ফিনিক্সের এক টিএসএ কর্মী পাস্কোয়াল কন্ট্রেরাস রয়টার্সকে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে বলতে গেলে, আমাদের তাদের প্রয়োজন নেই। আমাদের দরকার টাকা।’ হিউস্টনে আইসিই কর্মীদের উপস্থিতির পরেও লাইন চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল। প্রাক্তন আইসিই কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ‘গভীরভাবে ভুল সিদ্ধান্ত এবং বেপরোয়া।’ তিনি আরও বলেন, টিএসএ কর্মীরা যাত্রী স্ক্রিনিং ও হুমকি শনাক্তকরণে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত থাকলেও আইসিই কর্মীদের সেই দক্ষতা নেই।
এই পরিস্থিতির কারণে অনেক যাত্রী এখন বিমান ভ্রমণের বিকল্প উপায় খুঁজছেন। অনেকে ভাবছেন বিমানবন্দরের পরিবর্তে গাড়িতে ভ্রমণ করা কিংবা অন্য কোনো পরিবহন ব্যবস্থা বেছে নেওয়া উচিত কিনা। সামাজিক মাধ্যমেও এই বিষয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভ্রমণকারীদের এই দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
মন্তব্য করুন