যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বুধবার রাতে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির সাথে অনুষ্ঠিত একটি গোপন আলোচনা সভা থেকে বেরিয়ে আসেন। আলোচনার বিষয় ছিল জেফ্রি এপস্টাইনের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত। মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিওজে) এই মামলা পরিচালনার বিষয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মধ্যে এই ঘটনা ঘটলো।
আলোচনা চলাকালীন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এপস্টাইন মামলায় বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন যে বিচার বিভাগ এপস্টাইনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। আলোচনা শেষ না হতেই তারা সভা ত্যাগ করেন বলে জানা যায়।
বন্ডি এপস্টাইন মামলায় তার অবস্থানের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে সম্মত হন। তবে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তারা মনে করেন, এপস্টাইনকে যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি না করে তার সঙ্গে ক্ষমা চুক্তি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টাইন ছিলেন একজন ধনী ব্যবসায়ী ও দাতব্য কর্মী, যিনি অল্পবয়সী মেয়েদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে তাকে যৌন পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও তার সাজা ছিল অত্যন্ত হালকা। পরবর্তীতে তিনি আবারো একই ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হন এবং ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে জেলে আটক অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হলেও অনেকেই তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এপস্টাইন মামলায় বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। বিশেষ করে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এবার সরাসরি বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, রিপাবলিকান সদস্যরা এই ঘটনায় নীরব থাকলেও তাদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করেন যে বিচার বিভাগের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। তবে বিচার বিভাগ তা অস্বীকার করে বলেছে যে তারা আইন অনুযায়ীই কাজ করেছে।
আপাতত এপস্টাইন মামলায় নতুন করে তদন্ত শুরু করার দাবি উঠেছে। অনেকেই মনে করেন যে এপস্টাইনের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তবে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন যে এপস্টাইন মামলা মার্কিন রাজনীতিতে একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্তব্য করুন