আজ রাতে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের ডেটনের ইউনিভার্সিটি অব ডেটন অ্যারিনায় শুরু হতে চলেছে এনসিএএ মেন্স টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডের লড়াই। এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে ম্যাক কনফারেন্স চ্যাম্পিয়ন মিয়ামি (ওহাইও) আর এসিএসি কনফারেন্সের দল এসএমইউ। মিয়ামি দলটি তাদের নিয়মিত মরসুমে ছিল অপরাজিত (৩১-০), কিন্তু বিভিন্ন অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্ম যেমন কেনপম বা বার্তরিকভ-এর মতামতে তারা ছিল যথেষ্ট পিছিয়ে। অন্যদিকে এসএমইউ দলটির নিয়মিত মরসুম ছিল বেশ খারাপ গতিতে, শেষ ছয় ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে মাত্র একটি।
মিয়ামি দলের শক্তির কথা বলতে গেলে তাদের সামনে রয়েছেন সাতজন খেলোয়াড় যারা প্রতি ম্যাচে গড়ে কমপক্ষে দশ পয়েন্ট করে করেন। একই সাথে চারজন খেলোয়াড় প্রতি ম্যাচে গড়ে চারটি করে রিবাউন্ড নেন। কিন্তু এসএমইউ দলের শক্তিশালী সেন্ট্র ফরোয়ার্ড সামেত ইয়িগিতোগ্লু তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। সামেত প্রতি ম্যাচে গড়ে ১০.৯ পয়েন্ট আর ৭.৯ রিবাউন্ড করে থাকেন। তার বিপরীতে মিয়ামি দলের সবচেয়ে বড় রিবাউন্ডাররা হলেন ছয় ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার ইয়ান এলমার আর ছয় ফুট নয় ইঞ্চি উচ্চতার অ্যান্টওয়ান উলফোক। সামেতকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এসএমইউ দলের উপর চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে পরবর্তী রাউন্ডের দল নির্বাচন। বিজয়ী দলকে পরবর্তীতে মুখোমুখি হতে হবে ছয় নম্বর সিডযুক্ত টেনেসি দলের সাথে। ম্যাচটি শুরু হবে ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত ৯টা ১৫ মিনিটে, যা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে ট্রুটিভি চ্যানেলে। বাজির দুনিয়ায় ইতোমধ্যেই এসএমইউ দলকে দেখা যাচ্ছে -৭ থেকে -৭.৫ পয়েন্ট স্প্রেডে ফেভারিট হিসেবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন দ্বিতীয়ার্ধের মোট পয়েন্ট সংখ্যা ৮৫.৫-এর বেশি হবে এমন বাজিতে অংশ নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। কারণ দুটি দলই উচ্চ স্কোরিং দল হিসেবে পরিচিত, তাই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসএমইউ দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল তাদের গত দুই মাসের পারফরম্যান্স। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইনজুরির কারণে দল ছেড়ে যাওয়া বি.জে. এডওয়ার্ডসের অনুপস্থিতি তাদের সাম্প্রতিক খারাপ ফর্মের অন্যতম কারণ। যদিও তার ফিরে আসা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, তার উপস্থিতি দলের জন্য বিশাল সুবিধা হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে মিয়ামি দলের নিয়মিত মরসুমের পারফরম্যান্স তাদেরকে টুর্নামেন্টের জন্য যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করলেও অ্যানালিটিক্স মতে তারা ছিল যথেষ্ট দুর্বল দল। তাদের শক্তির হিসাব অনুযায়ী তারা ছিল দেশের মধ্যে ৮৭তম সেরা দল।
বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী এসএমইউ দলের শারীরিক শক্তি আর তারল্য মিয়ামি দলের বিপক্ষে বিশাল সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। যদিও মিয়ামি দলের অফেন্স বেশ কার্যকরী হলেও এসএমইউ দলের প্রতিরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বুপি মিলার (গড়ে ১৯.২ পয়েন্ট) আর জ্যারন পিয়েরে জুনিয়র (গড়ে ১৭.৬ পয়েন্ট)। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই ম্যাচে এসএমইউ দলই জয়লাভ করবে, যদিও স্প্রেড অনুযায়ী তারা জয় পেলেও তা অনেকটা নিশ্চিত নয়। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পয়েন্ট সংখ্যা ৮৫.৫-এর বেশি হবে এমন বাজিতে অংশ নেওয়াটাই বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মত দিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন