যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (এনওয়াইইউ) এর প্রায় নয়শত পূর্ণকালীন অস্থায়ী অধ্যাপকগণ গতকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং স্থায়ী পদে নিয়োগের সুযোগ। এ কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মতে, বর্তমান মজুরি কাঠামো তাদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের শোষিত করা হচ্ছে এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য এ পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী অধ্যাপকদের নেতারা জানিয়েছেন, এনওয়াইইউ কর্তৃপক্ষের সাথে দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা এ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে বার্ষিক বেতন সর্বনিম্ন ৭০ হাজার মার্কিন ডলার করা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবসরকালীন সুবিধা বৃদ্ধি, এবং স্থায়ী পদে নিয়োগের স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন। নেতারা আরও জানান, ধর্মঘট চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী অধ্যাপকগণ ক্লাস পরিচালনা করতে পারেন, তবে অস্থায়ী অধ্যাপকদের অধিকারের দাবিতে এ পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এনওয়াইইউ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ধর্মঘটের ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ক্লাস পরিচালনা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করেছেন। তবে তারা অস্থায়ী অধ্যাপকদের দাবিগুলির গুরুত্ব স্বীকার করে তাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নিয়োগ ও বেতন-সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ধর্মঘটের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী অধ্যাপকদের নেতারা জানিয়েছেন, তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার কোনও উদ্দেশ্য রাখেন না। তাদের প্রধান লক্ষ্য হল নিজেদের অধিকার আদায়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন করা।
এনওয়াইইউ-এর অস্থায়ী অধ্যাপকদের ধর্মঘট যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে কর্মী অধিকার ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরণের ধর্মঘটের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্মীদের দাবির প্রতি আরও সচেতন হবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণে যেন কোনও বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সজাগ থাকতে হবে বলে মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।
মন্তব্য করুন