আমেরিকার মতো বিশাল বহুত্ববাদী জাতির মধ্যে ঐক্য টিকিয়ে রাখা সহজ নয়। রাজনীতি, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনেও বিভাজনের ছায়া ক্রমশ দীর্ঘ হয়ে উঠছে। এমন এক সংকটময় সময়ে যখন স্বজনপ্রীতি, স্বার্থপরতা আর ক্ষমতার লোভ সমাজকে গ্রাস করতে উদ্যত, তখন নিউ জার্সির সিনেটর তথা প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ কোরি বুকার তাঁর নতুন গ্রন্থ ‘স্ট্যান্ড’-এ তুলে ধরেছেন নৈতিকতার ঐক্যবদ্ধ শক্তির কথা। তাঁর মতে, ন্যায়, সততা, সমাধানসহ মানবিক শ্রেষ্ঠ গুণাবলির চর্চাই পারে জাতিকে একত্রিত করতে এবং সমস্ত সংকটের মোকাবিলা করতে।
গত ১৯ মার্চ সিবিএস নিউজের ‘সানডে মর্নিং’ অনুষ্ঠানে প্রকাশিত এই বইয়ের অংশ বিশেষে বুকার লিখেছেন, ‘আমরা শুধুমাত্র একটি সরকার নই, আমরা একটি জাতি, সাধারণ আদর্শে আবদ্ধ মানুষ।’ তাঁর যুক্তি, ভালো-মন্দ বিচারের মানদণ্ড হারালে সমাজ ভেঙে পড়ে। তাই তিনি দশটি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন—স্বাধীনতা, দুর্বলতা প্রকাশের সাহস, দেশপ্রেম, সত্যবোধ, বিনয়, সামাজিক সম্পর্ক, সৃষ্টিশীলতা, অধ্যবসায়, ক্ষমাশীলতা আর দূরদৃষ্টি। এইসব গুণাবলিই আমাদের সমাজকে পুনর্গঠন করতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বুকার তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই এই উপলব্ধিতে উপনীত হয়েছেন। আমেরিকার ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এমন মানুষেরা ছিলেন যাঁরা নৈতিকতার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে জন লুইস পর্যন্ত। তাঁদের জীবনী বিশ্লেষণ করে বুকার দেখিয়েছেন যে, নৈতিকতার অনুশীলনই প্রকৃত শক্তি—যা সমাজকে সংগঠিত রাখে, সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং ব্যক্তির জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলে।
বইটির ভূমিকায় তিনি লেখেন, ‘যখন দেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়, তখন মানুষের মধ্যে দুটি পথ খোলা থাকে—একটি হলো সুবিধার জন্য নৈতিকতা বিসর্জন দেওয়া, আরেকটি হলো আদর্শের জন্য লড়াই করা। তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, নৈতিকতা বিসর্জন দিলে সেই জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, নৈতিকতার চর্চাই একমাত্র উপায় যার মাধ্যমে জাতি হিসেবে আমরা টিকে থাকতে পারি।’
বুকারের বেড়ে ওঠা হয়েছিল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সেই সময়ে যখন মানুষেরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন। তাঁর পরিবার থেকেই তিনি শিখেছেন যে, সাহস আর ত্যাগের মাধ্যমেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। তিনি লিখেছেন, ‘যদি তুমি কোনও আদর্শের জন্য দাঁড়াতে না পারো, তাহলে তুমি যেকোনও অন্ধ বিশ্বাসের কাছে হার মানবে।’ তাঁর এই উক্তি এখনও সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রাসঙ্গিক।
বইটি প্রকাশিত হচ্ছে আগামী ২৪ মার্চ। স্টার্ট মার্টিনস প্রেস থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি পাঠকদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবে বলে আশা করা যায়। এছাড়া, বইটি হার্ডকভার, ইবুক এবং অডিওবুক হিসেবে পাওয়া যাবে। কোরি বুকারের এই মূল্যবান গ্রন্থটি আমাদের সময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
মন্তব্য করুন