মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে তার বোন অ্যানি অল্টম্যানের করা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর হলেও আদালতের রায় অনুযায়ী, এটি দাখিলে দেরি হওয়ায় তা অকার্যকর হয়ে গেছে। তবে আদালত তাকে নতুন করে অভিযোগ দাখিলের অনুমতি দিয়েছে এক বিশেষ আইনের অধীনে, যা শিশু যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়সীমা প্রদান করে।
মিসৌরির ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক জ্যাকারি ব্লুস্টোন গত শুক্রবার এই রায় দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অ্যানি অল্টম্যানের অভিযোগগুলি সময়সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার কারণে তা আদালতে গ্রাহ্য হবে না। তবে তিনি তাকে মিসৌরি রাজ্যের বিশেষ শিশু যৌন নির্যাতন আইনের অধীনে নতুন অভিযোগ দাখিলের সুযোগ দিয়েছেন, যা তাকে আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছে। একই সঙ্গে বিচারক স্যাম অল্টম্যানের পাল্টা অভিযোগকেও বৈধতা দিয়েছেন, যেখানে অ্যানি অল্টম্যানকে মানহানির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অ্যানি অল্টম্যান তার অভিযোগে বলেছেন, তার ভাই স্যাম অল্টম্যান তাকে ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বারবার যৌন নির্যাতন করেছেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। তারা দুজনেই মিসৌরির ক্লেটন শহরে বড় হয়েছেন। যদিও স্যাম অল্টম্যান অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা এক বিবৃতিতে অ্যানির মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, অ্যানির পরিবার তার অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ করতে অস্বীকার করার পরই তিনি এই অভিযোগগুলি সামনে আনেন।
বিচারক ব্লুস্টোন তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, এই অভিযোগগুলি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যদি সত্য হয়, তবে তা মিথ্যা প্রমাণিত হলেও দুর্ভাগ্যজনক। অ্যানির আইনজীবী রায়ান মাহোনি জানিয়েছেন, তারা নতুন অভিযোগ দাখিল করবেন। তার মতে, আদালতের এই রায় শুধুমাত্র প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে, অভিযোগের সারবস্তুর উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে স্যাম অল্টম্যানের আইনজীবী এই প্রতিবেদনের জন্য কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।
এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত পরিবারের বিরোধ হিসেবেই রয়ে যাবে না, বরং সামাজিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানকারী একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা জনমনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে থাকবে সমগ্র বিশ্ব।
মন্তব্য করুন