যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারণা যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা হয়ে উঠেছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমনই এক পরিস্থিতিতে আলোচনায় উঠে এসেছেন পিটার চ্যাটস্কি নামের এক ধনী প্রযুক্তি নির্বাহী। তিনি নিউ ইয়র্কের প্রতিনিধি মাইক লয়ারলকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তার ফেসবুক প্রোফাইলের ইতিহাস ঘাঁটলে উঠে আসছে একের পর এক অশ্লীল মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ রসিকতার ছড়াছড়ি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমন বিষয় সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
পিটার চ্যাটস্কি একজন প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি নির্বাহী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রায়ই ফেসবুকে এমন সব পোস্ট করেছেন যা সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। তার পোস্টগুলিতে ছিল অশ্লীল ভাষা, কুরুচিপূর্ণ রসিকতা এমনকি নারীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যও। নির্বাচনী প্রচারণার সময় এসব পুরোনো পোস্ট সামনে আসায় তার বিরুদ্ধে জনমত গঠনের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পিটার চ্যাটস্কির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসার পর নির্বাচনী কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে তার পোস্টগুলি নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন করেছে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পিটার চ্যাটস্কির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই যুগে কোনো রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবনের এমন দিকগুলো নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করেন, নির্বাচনে জয়লাভের জন্য শুধু অর্থবিত্তই যথেষ্ট নয়, বরং ব্যক্তিগত চরিত্র ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতিও দায়বদ্ধ থাকতে হয়। পিটার চ্যাটস্কির বিরুদ্ধে উঠে আসা অভিযোগগুলো তার নির্বাচনী প্রচারণার জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, তার সমর্থকরা দাবি করছেন, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। তারা বলছেন, পুরোনো পোস্টগুলিকে অতীতের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের উপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তবে বিরোধীরা এই যুক্তিকে গ্রহণ করতে রাজি নয়। তাদের মতে, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার দায়িত্ব অনেক বেশি এবং ব্যক্তিগত জীবনের এমন দিকগুলো তার যোগ্যতার উপর প্রশ্ন তুলতে পারে।
এদিকে, নিউ ইয়র্কের স্থানীয় জনগণের মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকে মনে করছেন, এমন অভিযোগ ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তার লঙ্ঘন হতে পারে, আবার অনেকে বলছেন, রাজনীতি এমনই একটি ক্ষেত্র যেখানে ব্যক্তিগত চরিত্রের প্রতিও দায়বদ্ধতা থাকতে হয়। নির্বাচনী প্রচারণার চূড়ান্ত সময়ে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন