২০১৯ সালের কথা। উত্তর অ্যারিজোনার একটি ক্যাম্পিং ট্রিপ পরিবারের জন্য পরিণত হল ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। উটাহর বাসিন্দা ক্যাটি মন্সন নামে এক মা তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে ছিলেন সেই ট্রিপে। কিন্তু সকালবেলা তাঁর পাঁচ বছরের ছেলের কানে দুটি লাল দাগ দেখে হতবাক হয়ে যান তিনি। সেই দাগ দুটি দেখতে ব্যাটের কামড়ের মতো ছিল। ঘরের ভেতরে ব্যাট ঢুকে পড়ার ঘটনা আগে থেকেই তাঁরা জানতেন। এমনকি তাঁদের ঘরের সামনে ব্যাটের বিষ্ঠাও খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁরা।
এই ঘটনার পরই শুরু হয় তাঁদের জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান তিনি তাঁর ছেলেকে। চিকিৎসক ব্যাটের কামড়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে নিশ্চিত হন। তারপরই শুরু হয় তাঁদের সঙ্গে সিডিসি ও উটাহ রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের যোগাযোগ। পুরো পরিবারকেই রেবিসের প্রতিষেধক নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ ব্যাটের কামড় যে কোনও সময় মারাত্মক হতে পারে। এমনকি যদি কামড়ের চিহ্ন না থাকে তবুও প্রতিষেধক নেওয়া জরুরি।
ক্যাটি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারমাউন্টেন মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের ইমিউনোগ্লোবিউলিন ও রেবিস প্রতিষেধক দেওয়া হয়। কিন্তু বিধিবাম, তাঁদের স্বাস্থ্যবিমা ইউনাইটেড হেলথকেয়ার তাঁদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুরো খরচ বহন করতে রাজি হয়নি। বরং তাঁদেরকে প্রায় ৫০ হাজার ডলারের একটি বিল সামনে আসে। যার মধ্যে তাঁদের বিমার সর্বোচ্চ সীমাও ছিল মাত্র ১৩ হাজার ৩০০ ডলার।
ক্যাটি তাঁর বিমা কোম্পানির সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে খরচ কমাতে চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি ইন্টারমাউন্টেন মেডিকেল সেন্টারের সঙ্গেও দর কষাকষি করেন। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া যায় মাত্র ১০ শতাংশ ছাড়। চূড়ান্তভাবে তাঁদেরকে ১৩ হাজার ৩০০ ডলার নিজেদের গুনতে হয়। যদিও তিনি আগে থেকেই সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, তবুও শেষ মুহূর্তে তাঁর হাত শক্ত ছিল না।
সাত বছর পরও ক্যাটি সেই ঘটনা ভুলতে পারেননি। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে রোগী হিসেবে তাঁদের কোনও ক্ষমতা থাকে না। বিশেষ করে যখন তাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা প্রিমিয়াম হিসেবে অনেক টাকা দেন, তখনও তাঁদেরকে বিমা কোম্পানির ইচ্ছানুযায়ী চলতে হয়। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রোগীদের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝতে পেরেছেন, কীভাবে স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানিগুলো রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্যাটি এখন আরও সচেতন হয়ে উঠেছেন। তিনি চান যে অন্য পরিবারগুলোও যেন তাঁর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান, যাতে তাঁরা আগে থেকেই সতর্ক থাকতে পারেন।
মন্তব্য করুন