ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে সিলেটের অন্যতম পর্যটন স্পট ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর। স্বচ্ছ জলের প্রবাহ, সাদা পাথরের বুক চিরে বয়ে চলা ঝর্ণা আর পাহাড়ঘেরা সবুজ প্রকৃতি যেন এক স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি পরিবার তাদের আনন্দ মুহূর্তকে ধরে রাখতে ছুটে আসছে এই মনোরম স্থানটিতে। শিশুরা খেলাধুলা করছে পাথরের উপর, কিশোর-যুবকরা ছবি তুলছে প্রকৃতির কোলে, আর প্রবীণরা বসে আছেন প্রশান্তির আবহে। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই বেড়ে চলেছে এই স্থানের জনপ্রিয়তা।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকাটি মূলত পাহাড়ি ঝর্ণা ও সাদা পাথরের জন্য বিখ্যাত। ঈদের ছুটিতে এখানে পর্যটকদের ঢল নেমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আসছেন এই স্থানটি দেখতে। কেউ কেউ আবার নিজেদের প্রকৃতি-ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। সাদাপাথরের স্বচ্ছ পানি আর পারিপার্শ্বিক সবুজের মাঝে যেন হারিয়ে যেতে চান সবাই।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের আগে থেকেই পর্যটকদের আগমন শুরু হয়েছে। তবে ঈদের ছুটিতে তা চরমে পৌঁছে। কিছু পর্যটন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই তাদের বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এত পর্যটকের আনাগোনায় স্থানীয় পরিবেশের উপর চাপ পড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই বলছেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি এর সংরক্ষণের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরের ইতিহাসও বেশ প্রাচীন। এটি মূলত ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি পর্যটন কেন্দ্র। স্থানীয়দের বিশ্বাস, প্রাচীনকাল থেকেই এই স্থানটি পর্যটকদের কাছে পরিচিত ছিল। এখানকার পাথরের স্বচ্ছতা আর পাহাড়ের গঠন প্রকৃতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে আসছে যুগ যুগ ধরে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে।
ঈদের ছুটিতে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে আসা দর্শনার্থী ফারহানা আক্তার বলেন, “আমি আগেও একবার এসেছিলাম, কিন্তু ঈদের ছুটিতে আসা একেবারেই আলাদা। পরিবারের সবাই মিলে প্রকৃতির মাঝে আনন্দে মেতে উঠেছি।” আরেকজন পর্যটক রাশেদুল ইসলাম বলেন, “এত সুন্দর স্থান আগে দেখিনি। আমার মনে হয়েছে, প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার জন্য এমন একটা স্থানই দরকার।”
তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশবাদীরা পর্যটকদের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তারা স্থানীয়দের জন্য আরও বেশি পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির কথাও বলেছেন। ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরকে কেন্দ্র করে এখন গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দোকানপাট, খাবারের স্টল ও থাকার ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অনেকেই পর্যটনকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের কাছে একটি আদর্শ সময় হলো সকালবেলা। তখন সূর্যের আলোয় পাথরের স্বচ্ছতা আরও বেশি ফুটে ওঠে। সন্ধ্যার দিকে অনেকেই ফিরে আসেন, তবে যারা প্রকৃতির রাতে উপভোগ করতে চান তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই পর্যটন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে যাতে আরও বেশি পর্যটক আসতে পারেন সেজন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন