ঈদের ছুটির শুরুতেই যানজটের প্রকোপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাজীপুরের চন্দ্রা ও ত্রিমোড় এলাকার মহাসড়কের যাত্রীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরিবহন চালক ও উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে এই যানজটের কবলে পড়ে অসহায় হয়ে পড়েন। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সফিপুর থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত এবং কবিরপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের কারণে যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে কর্মজীবীদের গ্রামে যাওয়ার প্রবণতা এবং গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাকে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা। গাজীপুর জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার শিল্পকারখানার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে আগামী কয়েক দিন মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার ৬২টি, মঙ্গলবার ৪৪৪টি, বুধবার ১ হাজার ৪১৪টি এবং বৃহস্পতিবার ৮৩৩টি কারখানা ছুটি দেবে।
যাত্রীদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও যানজট নিয়ন্ত্রণে তাদের কাছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় বিভিন্ন দিক থেকে আগত যাত্রীর ভিড় এবং বাসে আরোহন-অবতরণের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জাফর আলী নামে এক যাত্রী বলেন, ‘চন্দ্রার আগে তেমন যানজট নেই; কিন্তু চন্দ্রা এলাকায় ঢুকতেই প্রকট ভোগান্তি শুরু হয়। ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশ থেকে খাড়াজোড়া পর্যন্ত যানজট সবচেয়ে বেশি। এই অংশ পার হতে পারলেই কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।’
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কর্মজীবীরা প্রতি বছরই ঈদ উপলক্ষে গ্রামের পথে রওনা হন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বেশ কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক জানান, দিন দিন যাত্রীর চাপ বাড়ছে, কিন্তু মহাসড়কের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ধীরগতির যানজট বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, মহাসড়কের যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তারা অভিমত প্রকাশ করেন যে, মহাসড়কের বিকল্প রুট তৈরী, যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীবাহী গাড়ির সময়সূচী পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে যানজট কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অন্যদিকে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মহাসড়কের সংস্কার এবং যানজট ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন