পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের পর্যটন মানচিত্রে নতুন রূপ ধারণ করেছে সিলেটের চা-বাগানগুলো। তিন দিনের সরকারি ছুটির প্রথম দিন থেকেই পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে সিলেটের বিখ্যাত সব চা-বাগান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকরা অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে ভিড় জমাচ্ছেন সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই অঞ্চলে। বিশেষ করে ঈদের তৃতীয় দিন অর্থাৎ গত ২৪ মার্চ শহরের কাছাকাছি অবস্থিত চা-বাগানগুলোতে পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
সিলেটের চা-বাগানগুলো যেন পর্যটকদের কাছে প্রকৃতির এক অনাবিল উপহার। সবুজের সমারোহ আর টিলার গায়ে বিস্তৃত চা-পাতার আবরণ পর্যটকদের মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে তোলে। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে অবসরে সময় কাটাতে সিলেটকে বেছে নিচ্ছেন। অনেকেই আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ও ছবি শেয়ার করে নিজেদের ভ্রমণের মুহূর্তকে ধরে রাখছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে সন্ধ্যার পরেও পর্যটকরা নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন। এছাড়া চা-বাগানের মালিকরা পর্যটকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে চা-পাতা সংগ্রহের সুযোগও করে দিয়েছেন। ফলে পর্যটকরা নিজের হাতে চা-পাতা তুলে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে পর্যটকদের ভিড় বৃদ্ধির কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার সময়ে সড়কে যানজট লেগেই থাকে। এছাড়া চা-বাগানগুলোর আশেপাশের হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে তাদের ব্যবসা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবারের সরবরাহ না থাকায় কিছু পর্যটককে হতাশ হতে দেখা গেছে।
সিলেটের চা-বাগানগুলো পর্যটকদের কাছে দিন দিন আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যারা প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটাতে চান, তাদের কাছে এই স্থানটি হয়ে উঠেছে অবশ্যদর্শনীয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ভিড় আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এর মাধ্যমে সিলেটের পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে সিলেট হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র।
মন্তব্য করুন