পবিত্র রমজান মাসের শেষ প্রান্তে এসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে উভয় দেশ। গত সোমবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি বিশাল মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার সূত্রে জানা যায়, ওই হামলায় চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঈদের কয়েকদিন আগে, যখন বিশ্ববাসী মহানবীর (সাঃ) অনুগ্রহ লাভের জন্য প্রার্থনায় মগ্ন।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক বিবৃতিতে জানান, আগামী বুধবার রাত বারোটা থেকে পরবর্তী পাঁচদিন অর্থাৎ সোমবার রাত বারোটা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হবে। তারার বলেন, মুসলিম ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন হিসেবে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে এই বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, যদি পাকিস্তানের ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী হামলা, ড্রোন হামলা বা অন্য কোনো সহিংস ঘটনা ঘটে, তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও একই ধরনের ঘোষণা দিয়ে জানায় যে, তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখবে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঈদের পূর্বে এই শান্তির বার্তা দুই দেশের জনগণের মধ্যে স্বস্তি এনেছে বলে জানা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিরতি স্থায়ী সমাধানের পথ নয়, বরং সাময়িক শান্তির মাধ্যমেই দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমিত হোক। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করে নি। তাদের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে এবং তালেবান সরকার সেই গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা কখনই কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।
এই ঘটনার পর চীন সহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও গত মাসে আবারও সংঘাত বেড়ে যায়। পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবান সরকারকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর আগে ইসলামাবাদ শুধুমাত্র সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত পাকিস্তান তালেবানের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাময়িক বিরতি দুই দেশের জনগণের মধ্যে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জরুরি। দুই দেশের সরকারের উচিত হবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন