পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই রাজধানী ঢাকা থেকে স্বজনদের কাছে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী যাত্রায় মানুষের আবেগ যেমন প্রবল, তেমনি যানজট, ভিড় আর অনিশ্চয়তায় ভোগান্তিও থাকে চরম। সরকারি ছুটির প্রথম দিন মঙ্গলবার থেকেই যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, বিমানবন্দর রেলস্টেশন আর সদরঘাট লঞ্চঘাটে দেখা গেছে বিপুল জনসমাগম। প্রতিবছরের মতো এবারও মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাস, ট্রেন, লঞ্চ কিংবা মোটরসাইকেলে চেপে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।
বাসস্ট্যান্ডগুলিতে মানুষের চাপ ছিল অস্বাভাবিক। যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে একাধিক পরিবারকে বাসের অপেক্ষায় দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই ইঞ্জিন চালু করতে যাত্রীদের ধাক্কা দিতে হয়েছে। ট্রেনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে ছাদে উঠে গেছেন, এমনকি ইঞ্জিনের রেলিং ধরে ঝুলেও যাত্রা করেছেন। গাজীপুরে উপচে পড়া যাত্রী নিয়ে ট্রেন ছুটে চলেছে গন্তব্যের দিকে। সদরঘাট লঞ্চঘাটেও ছিল চরম ভিড়। ভিড় ঠেলে লঞ্চের ডেকে উঠে শুয়ে পড়েছেন অনেকে, যেন ঈদের আনন্দ আর স্বজনদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার আনন্দই তাদের সব ক্লান্তি মুছে দেবে।
এই ঈদযাত্রায় শিশুদের আবেগও ছিল দৃষ্টান্তমূলক। সদরঘাটে দেখা গেছে এক দশ মাস বয়সী শিশু আবদুল্লাহকে। তার বাবার কাঁধে চেপে লঞ্চে উঠছিল সে। তার মা জানান, এবারই প্রথম সে দাদুবাড়িতে ঈদ পালন করতে যাচ্ছে। শিশুটির চোখেমুখে এক ধরনের আনন্দ আর উদ্বেগের মিশ্রণ ছিল লক্ষণীয়। এভাবেই প্রতিবছর লাখো মানুষের ঈদযাত্রায় মিশে থাকে আনন্দ, উৎকণ্ঠা আর এক ধরনের অসহায়ত্ব।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ছুটির শুরুতেই যাত্রীদের চাপ বেড়ে যেতে পারে বলে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তবে তারপরেও মানুষের চাপ সামলানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ট্রেন ও লঞ্চে ভিড় ছিল প্রচণ্ড। অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীদেরকে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিন্তু তারপরেও মানুষ নিজেদের ঘরে ফেরায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। কারণ, ঈদ মানেই তো স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়া, আনন্দ ভাগাভাগি করা আর নতুন বছরের প্রত্যাশায় নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া।
এবার ঈদযাত্রায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাবও লক্ষ করা গেছে। অনেকেই নিজেদের গাড়িতে তুলে দিয়েছেন অন্যদের। আবার কেউ কেউ খাবার শেয়ার করেছেন যাত্রীদের সঙ্গে। এই সামাজিক বন্ধনই মানুষকে একত্রিত করে, তাদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। কারণ, ঈদ তো শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি মানুষের মাঝে ভালোবাসা আর মিলনের উৎসবও বটে।
মন্তব্য করুন